নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। সেই থেকে কেটে গেছে প্রায় তিন যুগ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অবশেষে ২০২৫ সালে আবারও হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন।
ক্যাম্পাস জুড়ে এখন নির্বাচনী উন্মাদনা, শিক্ষার্থীদের আড্ডায় ঘুরে আসছে রাকসুর পুরোনো গল্প। অনেকেই খুঁজছেন ইতিহাস—শেষবার নির্বাচনে কারা বিজয়ী হয়েছিলেন, কারা নেতৃত্বে ছিলেন।
তিন দশকের ব্যবধান স্মৃতিকে করেছে ঝাপসা, তবুও আলোচনায় বারবার ফিরে আসছে ১৯৮৯ সালের রাকসু ভোট। সে সময় সারাদেশেই উত্তাল ছিল রাজনীতি, আন্দোলনের ঝড় বইছিল সর্বত্র। তবুও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হয়েছিল উৎসবমুখর নির্বাচন। ভোটকেন্দ্রে ছিল দীর্ঘ লাইন, প্রচারণায় সরগরম ছিল পুরো ক্যাম্পাস—সব মিলিয়ে তা ছিল শিক্ষার্থীদের প্রাণের উৎসব।
তখন রাকসু কেবল একটি ছাত্র সংসদ ছিল না; ছিল ছাত্রসমাজের আন্দোলন-দাবির কেন্দ্রবিন্দু। সেই নির্বাচনে উঠে এসেছিলেন একঝাঁক তরুণ ছাত্রনেতা, যাদের অনেকে পরবর্তীকালে জাতীয় রাজনীতিতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সর্বশেষ রাকসু নির্বাচনে (১৯৮৯) সহসভাপতি (ভিপি) পদে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব) এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) রুহুল কুদ্দুস বাবু নির্বাচিত হন। এছাড়া উপ-সহসভাপতি (প্রোভিপি) পদে মো. আব্দুল কাদের সরকার, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আলমগীর হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাকিলুর রহমান সোহাগ, সহক্রীড়া সম্পাদক মুস্তাফিজুর আলি খান পাপ্পু, সাহিত্য সম্পাদক মো. শামসুল ওয়াসে ও সহসাহিত্য সম্পাদক হন মো. আব্দুল মান্নান।
নির্বাচনে প্রমোদ সম্পাদক আজম শান্তনু, সহপ্রমোদ সম্পাদক ইমামুল আজম শাহী, সাধারণ কক্ষ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, সহসাধারণ কক্ষ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান ফসি, মহিলা সম্পাদক বৃত্তা রায় দীপা, সহমহিলা সম্পাদক মাহবুবা ইয়াসমিন রিতা, পত্রিকা সম্পাদক জাকিরুল হক টিটন, সহপত্রিকা সম্পাদক জগদীশ রায় জনি, সমাজসেবা সম্পাদক মো. করিম শিকদার ও সহসমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন আসলাম সরকার।
১৯৮৯ সালের পর থেকে রাকসু নির্বাচন যেন হারিয়ে যাওয়া এক অধ্যায় হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে সেটি শুধুই ইতিহাসের অংশ। তবে এবার নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে সে ইতিহাস আবারও জাগ্রত হবে, ছাত্ররাজনীতি আবারও যুক্ত হবে নতুন অধ্যায়। নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে ২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচন।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল আলম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ রাকসু নির্বাচন হয়েছিল ৩৫ বছর আগে। দীর্ঘ এ ব্যবধানের কারণে বর্তমান শিক্ষার্থীরা আগের নেতৃত্ব, ভিপি বা রাকসুর ইতিহাস সম্পর্কে তেমন জানে না। তথ্যপ্রবাহের অভাবে এ শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তাই প্রশাসনের উচিৎ আর্কাইভ, নথিপত্র ও প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে রাকসুর ইতিহাস ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সহজভাবে তুলে ধরা।
উল্লেখযোগ্য যে, এর মধ্যে রুহুল কুদ্দুস বাবু পরপর দুইবার জিএস পদে এবং এবিএম জাকিরুল হক টিটন পরপর দুইবার পত্রিকা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। উক্ত প্যানেলে ভিপি পদে কেবল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রুহুল কবির রিজভী আহমেদ নির্বাচিত হন, আর অন্যরা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ থেকে নির্বাচিত হন।
খবরওয়ালা/এমএজেড