খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৪
ইবি প্রতিনিধি ॥ প্রতিবিপ্লব রুখে দিয়ে শেখ হাসিনার বিচারে ট্রাইবুনাল গঠন সহ চার দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী রেজিস্ট্যান্স উইক এর অংশ হিসেবে বিক্ষোভ ও ছাত্র সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এক ছাত্র সমাবেশ করে।
এসময় শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন দেখা যায়। দাবীগুলো হলো শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের চালানো হত্যাযজ্ঞের বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন; ‘পরিকল্পিত হত্যা-ডাকাতি-লুণ্ঠনের’ মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় অংশগ্রহণ করা ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা ও সংখ্যালঘুদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া, প্রশাসন ও বিচার বিভাগে যাঁরা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে হত্যাযজ্ঞের বৈধতা দিয়েছেন তাদের দ্রুততম সময়ে অপসারণ ও নতুন সরকারে তাদের নিয়োগ বাতিল করে বিচারের আওতায় আনা এবং প্রশাসন ও বিচার বিভাগে এতদিন বৈষম্যের শিকারদের দ্রুততম সময়ে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা।

এসময় শিক্ষার্থীরা জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে; আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না; আমার ভাই কবরে, হাসিনা কেন বাহিরে; ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই; হৈ হৈ রৈ রৈ, খুনি হাসিনা গেলি কই; হৈ হৈ রৈ রৈ, কাউয়া কাদের গেলি কই; খুনিদের ঠিকানা, এই দেশেতে হবে না ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিল শেষে ছাত্র সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারা বাংলাদেশে একটা গোষ্ঠী আমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

আমরা একক ঐক্যবদ্ধ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের মাঝে যে বিভেদ সৃষ্টি করতে আসবে তার কালো হাত আমরা ভেঙে দেব। সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে দেশকে একটি সমৃদ্ধশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো যেখানে কোন দুর্নীতি, বৈষম্য, সেশনজট থাকবে না। যদি কেও ষড়যন্ত্রের সাহসও করে, তার সাহস আমরা কেড়ে নেব। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, ২৪ এর পরাজিত শক্তি গুচ্ছ গুচ্ছ ভাবে দেশে আবার অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন ভাবে জানতে পারছি ১৫ ই আগস্টের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক, কর্মকর্তা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, এই কুচক্রী মহলের নাম পরিচয় মুছে দিতে বদ্ধ পরিকর। আমরা রক্ত দিয়ে যে স্বাধীনতা পেয়েছি তা নস্যাৎ করার পায়তারা প্রতিহত করতে হবে। দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিনের লড়াই সংগ্রাম করে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে তা কোনোভাবেই ভেস্তে দেয়া যাবে না। আমরা আমাদের এই সংগ্রাম দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাবো।
আরও দেখুন: