খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত সাম্প্রতিক যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাবে, এই সংঘাতের মাত্র পঞ্চাশ দিনে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন ঘাটতির কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি, যা বর্তমান বাজার মূল্যে প্রায় পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলারের সমান।
রয়টার্সের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময়কাল জুড়ে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট তরল উৎপাদিত হয়নি, তার বাজারমূল্য হিসাব করেই এই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সরাসরি উৎপাদন বন্ধ বা হ্রাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি।
কেপলার নামক জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান জানায়, সংঘাত শুরুর পর বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট তরল পদার্থের সরবরাহে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় পঞ্চাশ কোটি ব্যারেল। এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
যুদ্ধের সূচনা হয় আটাশ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে চৌদ্দ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে পুনরায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বড় আকারের সরবরাহ বিঘ্ন আধুনিক জ্বালানি বাজারে বিরল ঘটনা। অতীতের কোনো সংকটেই একসঙ্গে এত বড় পরিমাণ উৎপাদন ঘাটতি দেখা যায়নি, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
নিচের সারণিতে প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংঘাতের সময়কাল | পঞ্চাশ দিন |
| সংঘাত শুরুর তারিখ | আটাশ ফেব্রুয়ারি |
| যুদ্ধবিরতির সময়কাল | চৌদ্দ দিন |
| উৎপাদন ঘাটতি | প্রায় পঞ্চাশ কোটি ব্যারেল |
| আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ | পাঁচ হাজার কোটি ডলারের বেশি |
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সরবরাহ সংকটের প্রভাব আগামী কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনুভূত হতে পারে। উৎপাদন হ্রাসের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
এই পরিস্থিতি জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ ঘাটতি থাকলে তা শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।