খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নাম কখনো ভাগ্যও বদলে দিতে পারে—এমনটা প্রমাণ করলেন কানাডার ১৯ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার যুবরাজ সিং সামরা। চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে টুয়েন্টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার অভিষেক ব্যাটিং ছিল এক ইতিহাস গড়া কাণ্ড। প্রথমে নাম দেখে চমকে যাওয়াই স্বাভাবিক: ‘যুবরাজ সিং’—যার সঙ্গে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি যুবরাজ সিংয়ের নামের মিল, কিন্তু এই নামের শেষের সংযোজন ‘সামরা’ দিয়েই আলাদা।
বয়সে ছোট হলেও ব্যাটে তার দাপট ২০১১ সালের সেই কিংবদন্তির স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছিল। বাবা বলজিৎ কামরা যুবরাজের ক্রিকেটের প্রথম গাইড; ছোটবেলায় ডানহাতি থেকে বাঁহাতি বানিয়ে দেন। তবে যে ছেলে একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেঞ্চুরি করবে, সেটা কল্পনাও করা যায়নি।
আজকের ম্যাচে যুবরাজের ইনিংসটি ছিল অবিশ্বাস্য: মাত্র ৬৫ বলে ১১০ রান। ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা। নিউজিল্যান্ডের বোলার ম্যাট হেনরি ও জিমি নিশাম—কেউই পার পেলেন না তাকে আটকাতে। এই এক ইনিংসেই ভাঙা রেকর্ডগুলো তালিকাভুক্ত করলে দাঁড়ায় এমন:
| রেকর্ড | যুবরাজ সিং সামরা | পূর্ববর্তী রেকর্ডধারী | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান | ১৯ বছর ১৪১ দিন | আহমেদ শেহজাদ | সহযোগী দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম |
| সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান (ওয়ানডে + টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ) | যুবরাজ সামরা | পল স্টার্লিং | ২ ধরনের বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বকনিষ্ঠ |
| সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি (সহযোগী দেশ বনাম পূর্ণ সদস্য দেশ) | যুবরাজ + দিলপ্রীত বাজওয়ার: ১১৬ রান | পূর্বে কোনও রেকর্ড নেই | নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়া |
নিউজিল্যান্ডের একাদশে লকি ফার্গুসন ও মিচেল স্যান্টনার ছিলেন না, কিন্তু ম্যাট হেনরি ও জিমি নিশাম ছিলেন। যুবরাজ ৩৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন, এরপর বাজওয়ারের সঙ্গে ১১৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে তোলেন, যা সহযোগী দেশ বনাম পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
কানাডার ব্র্যাম্পটনে জন্ম নেওয়া যুবরাজ পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত। ক্রিকেটের হাতেখড়ি টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট লিগে। আন্তর্জাতিক অভিষেক করেছিলেন গত বছরের মার্চে। বাহামার বিপক্ষে ১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা দেখিয়েছে তিনি ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত। তবে চেন্নাইয়ের মন্থর উইকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ৬৫ বলে ১১০ রান সত্যিই অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
শেষ ম্যাচে কানাডা ৪ উইকেটে ১৭৩ রান তুললেও নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে ১৪৬ রান অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাড়া করে জিতেছে। হারের পরও যুবরাজের ইনিংস হয়ে উঠেছে দর্শকদের মনে স্মরণীয় ইতিহাস। প্রতিটি শট যেন ঘোষণা করছিল—নাম মিল মাত্র নয়, ক্রিকেটীয় প্রতিভা তার পরিচয়।
আজকের যুবরাজ শুধু রেকর্ডই ভাঙেননি; নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন—যে নামই মিলুক না কেন, কাজ ও প্রতিভা দিয়ে ইতিহাস লেখা যায়।