খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় পর্যায়ে নতুন দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস ঘোষণা করেছে সরকার। এর মধ্যে ৭ নভেম্বরকে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এবং ৬ জুলাইকে ‘পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সরকার জাতীয় ইতিহাস ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনায় দুটি আলাদা দিবস নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে জাতীয়ভাবে পালিত হবে এবং এ দিনটি সরকারি ছুটির আওতায় থাকবে। অন্যদিকে ৬ জুলাইকে পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে, তবে এই দিনে কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায়কে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন ও পল্লী অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরতে আলাদা দিবস ঘোষণাকে একটি নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের শীর্ষ মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেন।
মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং জাতীয় দিবস সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। নতুন দুটি দিবস ঘোষণার মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাস ও উন্নয়ন দর্শনকে আরও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।
নতুন ঘোষিত দিবস দুটির সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
| দিবস | তারিখ | নামকরণ | ছুটির অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ৭ নভেম্বর | বিপ্লব ও সংহতি দিবস | জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস | সরকারি ছুটি থাকবে |
| ৬ জুলাই | পল্লী উন্নয়ন দিবস | গ্রামীণ উন্নয়ন কেন্দ্রিক দিবস | সরকারি ছুটি থাকবে না |
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ৭ নভেম্বরকে জাতীয় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হিসেবে বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৬ জুলাইকে পল্লী উন্নয়ন খাতে অর্জিত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার জন্য বিশেষ দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, পল্লী উন্নয়ন দিবসের মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সরকারের ভূমিকা জনসমক্ষে আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, বিপ্লব ও সংহতি দিবস জাতীয় ঐক্য, ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি ছুটির আওতায় থাকায় এ দিনটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয়ভাবে উদযাপিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন দুটি দিবস ঘোষণা সরকারের ইতিহাসভিত্তিক স্বীকৃতি ও উন্নয়ন দর্শনের সমন্বিত প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।