খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ওইদিন ছিনতাই হওয়া চারটি জেটবিমানের মাধ্যমে একযোগে হামলা চালানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্থানে। নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার, ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার একটি খামার এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
যাত্রীদের প্রতিরোধে পেনসিলভানিয়ায় একটি বিমানের ভিন্ন পরিণতি হলেও সামগ্রিকভাবে ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ঘটনাটি ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। পরে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন এ হামলার দায় স্বীকার করেন। এর পরপরই আফগানিস্তানে সন্ত্রাস দমনের নামে দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, ৯/১১-এর স্মৃতিকে সামনে রেখে নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারের পুরনো স্থানে নির্মিত ৯/১১ মেমোরিয়াল ও মিউজিয়ামে স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে সেন্ট পল’স চ্যাপেলে বাজানো হবে ‘বেল অব হোপ’ বা ‘আশার ঘণ্টা’। এই সময়টিই ছিল হামলার প্রথম বিমান আঘাত হানার মুহূর্ত। অপরদিকে, ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগনে কর্মরতরা গতকাল (১০ সেপ্টেম্বর) বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সিবিএস-এর তথ্যমতে, হামলার ২৪ বছর পার হলেও এখনও প্রায় ১,১০০ জন ভিকটিমের পরিচয় অজানা রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৬০০ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও বাকিদের পরিচয় নির্ধারণে গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ভাষায়, “সেই মর্মান্তিক দিনের পর আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম, যতদিন না শেষ ভিকটিমকেও শনাক্ত করা যায়, ততদিন পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ যত্নসহকারে আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ণ থাকে। অনেক সময় এ দেহাবশেষ এতটাই ক্ষুদ্র ছিল যে, সেগুলো দেখতে মটরের দানার মতো মনে হতো। সব নমুনাই ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বছর ঘুরে শহরের বিভিন্ন কোণা, ছাদ ও লুকানো স্থানে নতুন করে দেহাবশেষও উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞানীরা জানান, প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে বর্তমানে আরও উন্নতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তির সাহায্যে আরও তিনজন ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তবে এখনো হাজারেরও বেশি ভিকটিমের পরিচয় অজানা। তাদের বিশ্বাস, যদি নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা ডিএনএ নমুনা দেন, তবে আরও অনেককে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সূত্র : সিবিএস
খবরওয়ালা/শরিফ