খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত টানা ছয় মাস বেতন পাচ্ছেন না দেশের ৬৩টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। ‘ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার’ (ইএফটি) প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করায় এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। শিক্ষকরা বলছেন, শুধু বেতনই নয়, তারা বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা ও তাদের পরিবার।
জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতায় এমপিওভুক্ত ছিল। ২০০৯-১০ সালের দিকে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। সেই অনুযায়ী অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর হলেও ভুলবশত প্রায় ১৫০টি প্রতিষ্ঠান মাউশির অধীনেই থেকে যায়। পরবর্তীতে আবেদনক্রমে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর পেলেও শেষ পর্যন্ত ৬৩টি প্রতিষ্ঠান মাউশির অধীনে থেকেই গেছে এবং সেখানকার শিক্ষকরা মাউশির মাধ্যমেই বেতন-ভাতা পেয়ে আসছিলেন।
তবে সর্বশেষ তাদেরও কারিগরিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু নতুন কর্তৃপক্ষ ইএফটি সিস্টেমে যুক্ত না করায় ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে বেতন বন্ধ হয়ে যায়।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পিআইইউ) প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান ও উপপরিচালক (এমপিও) মো. খোরশেদ আলম আশ্বাস দিয়েছেন, মে মাসের বেতন এবং ঈদুল আজহার বোনাস খুব শিগগিরই দেওয়া হবে। নতুন অর্থবছর থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, কারিগরি শিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত এক সভায় জানানো হয়, আগামী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি পুনরায় চালু করা হচ্ছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, “আগে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি পরীক্ষা হতো, কিন্তু ২০১৬ সালে তা বাতিল করে জিপিএ ভিত্তিক ভর্তি চালু করা হয়। নতুন করে আবার পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাভিত্তিক ভর্তি চালু করা হবে।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শামসুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (কারিগরি) রেহানা ইয়াছমিন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শোয়াইব আহমাদ খান, কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, আইডিইবি’র আহ্বায়ক প্রকৌশলী কবির হোসেন এবং সদস্য সচিব প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
শিক্ষকরা আশাবাদী হলেও, বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের দুশ্চিন্তা কাটছে না। শিক্ষক সমাজ প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দায়িত্বে থেকেও এমন অনিয়ম কীভাবে চলতে পারে।
খবরওয়ালা/ এমএজেড