খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৯৮ দিনের মধ্যে চীনের ভারতে অবস্থিত দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো ৮৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিককে ভিসা দিয়েছে। চীনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সু ফিহং এ তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূতের পোস্টে বলা হয়েছে—এই বিপুল সংখ্যক ভিসা ইস্যু দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি ভারতীয় নাগরিকদের চীন সফরে উৎসাহ দিয়ে বলেন, এখন চীন আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত, নিরাপদ, সজীব ও বন্ধুত্বপূর্ণ।
বেইজিং সরকার ভারতীয়দের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে। এখন আবেদনকারীদের আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন নেই—সরাসরি ভিসা কেন্দ্রে গিয়ে আবেদন করা যাচ্ছে। এমনকি স্বল্প মেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার নিয়মও তুলে দেওয়া হয়েছে। কমিয়ে আনা হয়েছে ভিসা ফি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদন দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
চীনের মতে, এসব পদক্ষেপ ভারতীয়দের মধ্যে ব্যবসা ও পর্যটনের আগ্রহ বাড়াবে এবং সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে যোগাযোগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করবে। দেশটি এখন ভারতীয় পর্যটকদের টানতে ঋতুভিত্তিক উৎসব ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর প্রচারে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষার জন্য চীন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, বিশ্ববাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির প্রসঙ্গ টেনে চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন, যার মধ্যে চীনের ক্ষেত্রে ১৪৫ শতাংশ শুল্ক এখনো বলবৎ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং বলেন, ভারত ও চীনের মতো দুই বৃহৎ উন্নয়নশীল দেশের উচিত একত্রে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা। তিনি একতরফা শুল্ক ও প্রোটেকশনিজমের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
যদিও চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত ইস্যুতে বহুদিনের উত্তেজনা রয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের ভিসা ছাড়ের উদ্যোগ দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গড়ার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
খবরওয়ালা/আরডি