খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হবিগঞ্জে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের সামনে বুধবার দুপুরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করলেন জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা–কর্মী। ঘটনার কিছুক্ষণ পর একদল তরুণ ও যুবক কার্যালয়ের মূল ফটকে আগুন ধরিয়ে দেন। উল্লেখযোগ্য, ওই সময় কার্যালয়ে কোনো নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংলগ্ন টাউন হল সড়কে নেতা–কর্মীরা হঠাৎ করে উপস্থিত হয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারা “জনগণের পাশে আওয়ামী লীগ” শীর্ষক স্লোগান দেন। প্রায় ১০ মিনিট পর তারা সেখানে থেকে চলে যান।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সব ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
দুপুর দুইটার দিকে একদল তরুণ ও যুবক জেলা কার্যালয়ে প্রবেশ করে মূল ফটকে আগুন ধরান। আগুনের ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে, প্রায় দেড় বছর ধরে পড়ে থাকা ধ্বংসস্তূপে আগুনের সৃষ্ট ধোঁয়া ও অগ্নির আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, “যারা আগুন ধরিয়েছে, আমরা সঠিকভাবে জানি না। পরে আগুন নিজেই নিভে যায়।”
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় আগেও বিভিন্ন সময় বিতর্কিত ও সহিংস ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে আন্দোলনের সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও সাধারণ জনগণ একাধিক দফায় কার্যালয়ে আগুন দিয়েছিলেন।
নিম্নের টেবিলে সাম্প্রতিক পতাকা উত্তোলন ও আগুনের ঘটনায় সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনা | উপস্থিতি | ক্ষয়ক্ষতি |
|---|---|---|---|
| ২০২৬-০২-১৭, ১১:৩০ | জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন | জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মী | কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি |
| ২০২৬-০২-১৭, ১৪:০০ | কার্যালয়ে আগুন ধরানো | একদল তরুণ ও যুবক | সামান্য, আগুন নিজে নিভে যায় |
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, ধ্বংসস্তূপ ও আগুনের আতঙ্ক পুনরায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। প্রশাসনিক পর্যায়ে এখনও এ ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
হবিগঞ্জের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতি ও জননিরাপত্তার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যালয়ের ধ্বংসস্তূপ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।