খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত নতুন সরকারে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার রাজশাহী বিভাগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় এই বিভাগের অভিজ্ঞ ও নবীন রাজনীতিকদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২৮টিতে জয়লাভ করেছে, আর বাকি ১১টি আসনে বিজয়ী হয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচনী ফলাফলের এই প্রতিফলন দেখা গেছে মন্ত্রিসভা গঠনেও।
রাজশাহী বিভাগ থেকে এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন মোট সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এর মধ্যে দুইজন পূর্ণ মন্ত্রী, চারজন প্রতিমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নিচে তাদের তালিকা ও দপ্তরসমূহ তুলে ধরা হলো:
| নাম | আসন/অঞ্চল | পদমর্যাদা | দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়/দপ্তর |
| ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু | সিরাজগঞ্জ-২ | পূর্ণ মন্ত্রী | বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ |
| মিজানুর রহমান মিনু | রাজশাহী-২ | পূর্ণ মন্ত্রী | ভূমি মন্ত্রণালয় |
| ফারজানা শারমিন পুতুল | নাটোর-১ | প্রতিমন্ত্রী | মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজ কল্যাণ |
| মীর শাহে আলম | বগুড়া-২ | প্রতিমন্ত্রী | স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় |
| মোহাম্মদ আব্দুল বারী | জয়পুরহাট-২ | প্রতিমন্ত্রী | জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় |
| ড. এম এ মুহিত | সিরাজগঞ্জ-৬ | প্রতিমন্ত্রী | স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ |
| রেহান আসিফ আসাদ | রাজশাহী (গোদাগাড়ী) | উপদেষ্টা | প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা (পররাষ্ট্র বিষয়ক) |
রাজশাহী মহানগরী দীর্ঘ ৪৬ বছর পর একজন পূর্ণ মন্ত্রী পেল। রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হেভিওয়েট নেতা মিজানুর রহমান মিনু ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে ১৯৭৯ সালে এমরান আলী সরকার এই আসন থেকে ত্রাণ মন্ত্রী হয়েছিলেন। মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীর সাবেক সফল মেয়র হিসেবে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলমত নির্বিশেষে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। শপথ গ্রহণ শেষে তিনি রাজশাহীর সামগ্রিক উন্নয়নে নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তার এই পদোন্নতিতে সিরাজগঞ্জ জেলাজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তার ভাগ্নে ড. এম এ মুহিতও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
উত্তরাঞ্চলের ৭২টি আসনের মধ্যে একমাত্র নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুলকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে নারী নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের কন্যা এবং পেশায় একজন আইনজীবী। এছাড়া জয়পুরহাট থেকে সাবেক দক্ষ আমলা মোহাম্মদ আব্দুল বারী এবং বগুড়া থেকে তৃণমূলের নেতা মীর শাহে আলমকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রশাসনের অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতির সমন্বয় ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নওগাঁ জেলা থেকে কাউকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়নি, তবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু আশ্বস্ত করেছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট জেলা থেকে মন্ত্রী না থাকার অর্থ এই নয় যে সেই জেলা অবহেলিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি সরকারের নীতি হলো সুষম উন্নয়ন। প্রতিটি জেলার মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন।”
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত মনে করেন, এই সাতজন প্রতিনিধির মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের দীর্ঘদিনের অবহেলিত অবকাঠামো ও কৃষি খাতের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই নতুন নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করছেন।