খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চীনের মধ্যাঞ্চলের একটি ব্যস্ত জনপদে পবিত্র চন্দ্র নববর্ষের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। একটি আতশবাজির দোকানে আকস্মিক ও শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) চন্দ্র নববর্ষের ছুটির দ্বিতীয় দিনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে দোকানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আশপাশের এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
চীনে চন্দ্র নববর্ষ বা ‘লুনার নিউ ইয়ার’ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো আতশবাজি ও পটকা ফাটানো। লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী, বিকট শব্দের মাধ্যমে অশুভ আত্মাকে তাড়িয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। মঙ্গলবার মূল উৎসব শুরু হলেও দেশজুড়ে সরকারি ছুটি ও উদযাপনের আমেজ চলছিল। ঠিক সেই সময়েই এই বিস্ফোরণটি ঘটে। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ১২ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিস্ফোরণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যাদি একনজরে:
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনার সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার (চন্দ্র নববর্ষের দ্বিতীয় দিন)। |
| নিহতের সংখ্যা | ১২ জন (প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী)। |
| প্রাথমিক কারণ | মজুদকৃত আতশবাজিতে অসতর্কতাবশত অগ্নিসংযোগ। |
| প্রভাবিত এলাকা | চীনের মধ্যাঞ্চলের একটি ছোট শহর। |
| বর্তমান অবস্থা | এলাকাটি সিলগালা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। |
বিগত কয়েক দশকে চীনে আতশবাজি ও পটকা জনিত দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বেইজিং, সাংহাই এবং গুয়াংজুর মতো বড় শহরগুলোতে দূষণ রোধ ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আতশবাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে ছোট শহর ও গ্রামীণ জনপদে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ছোট শহরগুলোতে এখনো ‘মিসাইল’ ধরনের শক্তিশালী আতশবাজি ও উচ্চ শব্দের পটকা অবাধে বিক্রি ও ব্যবহার করা হয়।
চীনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে, অবৈধ কারখানায় তৈরি এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মজুদ করা আতশবাজিগুলো একেকটি জীবন্ত বোমার মতো। বিশেষ করে উৎসবের সময় যখন চাহিদাও অনেক বেড়ে যায়, তখন দোকানদাররা গাদাগাদি করে এসব বিস্ফোরক মজুদ করেন। বুধবারের এই বিস্ফোরণের পর চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সারা দেশে আতশবাজির দোকানগুলোতে বিশেষ তল্লাশি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার গভর্নর মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, আগুনের উৎস এবং স্টোরেজ ব্যবস্থার ত্রুটি খুঁজে বের করতে ফরেনসিক দল কাজ করছে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, উৎসবের আনন্দ উদযাপনে সামান্য অসতর্কতা কীভাবে জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।
এই মর্মান্তিক সংবাদটি পুরো চীনে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং উৎসবের আমেজে এক ধরনের স্থবিরতা নিয়ে এসেছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সকল প্রকার আতশবাজি প্রদর্শনী স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।