খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের খ্যাতিমান শিল্পীরা নতুন সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা সরকারের কাছে স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন, নিরাপদ ও স্বাধীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, এবং যোগ্যতা অনুযায়ী স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে, দেশসেরা ব্যান্ড মাইলস এর সদস্য ও প্রখ্যাত শিল্পী হামিন আহমেদ তার বক্তব্যে দেশের সঙ্গীতশিল্পী, অভিনেতা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পেশাজীবীদের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন এবং সরকারের সক্রিয় সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
হামিন আহমেদ সম্প্রতি একটি বিস্তৃত আলোচনা সভায় দেশের সঙ্গীত ও শিল্পকলার বর্তমান অবস্থা ও শিল্পীদের কল্যাণ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে, তবুও সঙ্গীত পেশা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব হবে এই পেশাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া। সংকটের সময় সাংস্কৃতিক পেশাজীবীরা অযথা সমালোচনার মুখোমুখি হন। সরকারকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে যে, এই অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি হবে না। জনগণের এ বিষয়ে জ্ঞাত থাকার অধিকার রয়েছে।”
শিল্পীর মর্যাদা নিয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন: “যখন কোনো সরকার কোনো শিল্পীকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়, সেই শিল্পীর প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য বা সমালোচনা হওয়া উচিত নয়। সঙ্গীতশিল্পী ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পেশাজীবীদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। সরকারকে শিল্প ও সাহিত্য জগতে যুক্ত সকলের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।”
তিনি শিল্পীদের কমার্শিয়ালি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (CIP) স্বীকৃতির অভাবকেও সমালোচনা করেন। “শিল্পীরা জীবিকা নির্বাহ করেন, কর দেন, কিন্তু সামাজিক স্বীকৃতি পান খুবই কম। অনেক দেশে শিল্পীকে সর্বজনীনভাবে সম্মান দেওয়া হয়, কিন্তু আমাদের ব্যবস্থায় তা লক্ষ্য করা যায় না।”
শিল্পশিক্ষার প্রসার নিয়ে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সঙ্গীত শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার, যা শিক্ষার্থীর মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়ক হবে এবং সমাজে শিল্পকলার মূল্যায়ন বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি, তিনি দেশের সব প্রান্তে শিল্পীদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে পরিবেশনা করার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পেশাদারীকরণের বিষয়েও হামিন আহমেদ বলেন: “সঙ্গীত শুধুমাত্র একটি কার্যকলাপ নয়; এটি শিল্প হিসাবে স্বীকৃত হতে হবে। ভারত ও অন্যান্য দেশের উদাহরণ অনুসরণ করে আমরা সঙ্গীতকে পেশাদার ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্র হিসেবে উন্নয়ন করতে পারি। সরকার চাইলে এই ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করতে পারে।”
নিচের টেবিলে শিল্পীদের মূল দাবি ও সম্ভাব্য সরকারি উদ্যোগগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | শিল্পীদের প্রত্যাশা | প্রস্তাবিত সরকারি উদ্যোগ |
|---|---|---|---|
| রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি | নেই | পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা | CIP স্বীকৃতি দেওয়া; স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন |
| কর্মপরিবেশ | অস্থিতিশীল, নিরাপত্তাহীন | নিরাপদ ও স্বাধীন কর্মক্ষেত্র | নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; অনবাধ পরিবেশনা সুবিধা প্রদান |
| শিক্ষা | প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীত পাঠক্রম নেই | প্রাথমিক থেকে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু | স্কুল পাঠক্রমে সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত করা |
| শিল্পীর মর্যাদা | প্রায়ই উপেক্ষিত | পেশাগত স্বীকৃতি | সম্মান বৃদ্ধি; সরকারি সহায়তা প্রদান |
| সঙ্গীতকে শিল্প হিসেবে | আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয় | পেশাদারী সঙ্গীত শিল্প | সঙ্গীতকে ব্যবসায়িক ও পেশাদার ক্ষেত্র হিসেবে উন্নয়ন |
হামিন আহমেদের বার্তা স্পষ্ট: সাংস্কৃতিক পেশাজীবীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। যদি আগত সরকার এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করে, বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক জগৎ আরও প্রাণবন্ত, টেকসই এবং বিশ্বমঞ্চে সম্মানিত হতে পারে।