খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে এই তিনটি বড় সিটিতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা যায়।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে বাকি নয়টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন, পাশাপাশি জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব আদালতের নির্দেশে বর্তমানে শাহাদাত হোসেন পালন করছেন।
ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তখন তিনটি বড় সিটিতে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতির জন্য ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সরকার পরবর্তীতে সংসদের সম্মতি ছাড়াই নির্বাচন আয়োজন করতে পারেনি।
আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। নিম্নে প্রধান তিন সিটির মেয়াদ ও প্রথম সভার তারিখ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হলোঃ
| সিটি করপোরেশন | প্রথম সভা তারিখ | মেয়াদ সমাপ্তি | মেয়াদ (বছর) |
|---|---|---|---|
| ঢাকা দক্ষিণ | ২ জুন ২০২০ | ১ জুন ২০২৫ | ৫ |
| ঢাকা উত্তর | ৩ জুন ২০২০ | ২ জুন ২০২৫ | ৫ |
| চট্টগ্রাম | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৫ |
ইসি মনে করছে, এই তিন সিটিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সবচেয়ে জরুরি। চিঠি পাওয়ার পর কমিশন দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটিতে সময় সীমিত থাকায় সেখানে আলাদা জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আমাদের মূল দায়িত্ব নির্বাচন আয়োজন। নির্বাচন শুরুর নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত সিটি করপোরেশনসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করব।”
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, “ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন হবে। নির্বাচনের জন্য আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হয়।”
এইভাবে, দেশের তিনটি প্রধান সিটিতে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পুনর্গঠন শুরু হবে এবং পরবর্তী ধাপে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচনও সুসংহতভাবে সম্পন্ন করা হবে।