খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে এবং পূর্ব জেরুজালেমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করেছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারক কেএএন জানিয়েছে, বুধবার থেকে পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর এবং সিম লাইনের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ মূলত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান ইস্যু, বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। কেএএন জানিয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমের পুরাতন শহর এবং আল-আকসা মসজিদের আশেপাশে পুলিশ ও সীমান্ত পুলিশ মোতায়েনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, “রমজানের প্রথম কয়েক দিনে চরম পরিস্থিতির জন্য হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে।”
ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রমজানকে সামনে রেখে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমে গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করেছে এবং নির্বাসনের আদেশ জারি করেছে। ওয়াদি হিলওয়ে ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, অভিযান বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগের কর্মী, সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি এবং পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি কর্মীদের। তাদের মতে, আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি সীমিত করার জন্য একটি পরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, শুক্রবার সাপ্তাহিক জুমার নামাজে অংশ নেওয়ার জন্য ১০,০০০ ফিলিস্তিনি উপাসককে পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে গাজার সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দুই অঞ্চলের মধ্যে একাধিক সামরিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং কেবল অনুমতিপত্রধারীরাই চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন।
ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ১৯৬৭ সালের দখল এবং ১৯৮০ সালের অবৈধ সংযুক্তিকরণকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে (পূর্ব জেরুজালেমসহ) সামরিক অভিযান ও বসতি সম্প্রসারণে তৎপরতা বাড়িয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড, বাড়িঘর ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি এবং নতুন বসতি স্থাপন।
নিচের টেবিলটিতে রমজানের প্রথম দিন থেকে মোতায়েন করা ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান স্থানসমূহ এবং কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলোঃ
| এলাকা | মোতায়েনকৃত বাহিনী | প্রধান কার্যক্রম | লক্ষ্য/উদ্দেশ্য |
|---|---|---|---|
| পূর্ব জেরুজালেম (পুরাতন শহর) | পুলিশ ও সীমান্ত পুলিশ | пат্রোল বৃদ্ধি, চেকপোস্ট স্থাপন | সম্ভাব্য সংঘর্ষ প্রতিরোধ |
| আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ | সীমান্ত পুলিশ | পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা | ফিলিস্তিনি উপাসকের উপস্থিতি সীমিত করা |
| পশ্চিম তীর | সামরিক বাহিনী | চেকপোস্ট, অভিযান | নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা |
| সিম লাইন | সীমান্ত টহল | সীমান্ত রক্ষা | আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস |
এই পরিস্থিতি রমজানের শুরুতেই প্রেক্ষাপটকে আরও উত্তপ্ত করেছে এবং পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে।