আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের পরিকল্পনা করা আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এ লেভেলের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা থাকতে হবে। মূলত দক্ষ কর্মী ভিসা, বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট চাকরির বিভাগ এবং স্কেল আপ বা দ্রুত বিকাশমান ব্যবসা খাতে চাকরির ভিসার আবেদনকারীদেরকে এই ভাষাগত সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। এ লেভেলের ইংরেজি দক্ষতা ‘দ্য কমন ইউরোপিয়ান ফ্রেমওয়ার্ক ফর রেফারেন্স ফর ল্যাংগুয়েজ’-এর বি ২ স্তরের সমান বলে জানানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে অভিবাসনবিষয়ক প্রকাশিত শ্বেতপত্রের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, ‘যারা এই দেশে আসবেন, তাদের অবশ্যই আমাদের ভাষা শিখতে হবে এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা ব্রিটেনে অবদান রাখেন, তাদের স্বাগত জানানো হয়, তবে ভাষা না জেনে এখানে আসা গ্রহণযোগ্য নয়।’
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভিসা প্রার্থীদেরকে সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে কথা বলা, শোনা, পড়া এবং লেখার দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। দক্ষ শ্রমিক, স্কেল আপ এবং হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়াল (এইচপিআই) বিভাগে আবেদনকারীদের বি ২ লেভেলের ভাষাগত সক্ষমতা থাকতে হবে, যেখানে আগে এই মানদণ্ড ছিল বি ১ লেভেল।
স্কেল আপ ভিসা সাধারণত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ব্যবসা খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে, হাই পটেনশিয়াল ব্যক্তি বলতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের স্বনামধন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারীদের বোঝানো হচ্ছে। অন্য ক্যাটাগরির ভিসা প্রার্থীদের জন্যও ভাষাগত দক্ষতার শর্ত পর্যায়ক্রমে প্রযোজ্য করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘শ্বেতপত্রে ঘোষিত পরিবর্তনগুলো যুক্তরাজ্যের অভিবাসনব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্পষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত করবে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ অভিবাসীর আগমন কমে আসবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ড. ম্যাডেলেইন সাম্পসন জানান, অনেক গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের চাকরিতেই ইতোমধ্যে এ লেভেলের ভাষাগত দক্ষতা আবশ্যক। তার বিশ্লেষণ মতে, সরকারের নতুন এই নীতিমালা মূলত টেকনিক্যাল ও ম্যানুয়েল স্কিলের মতো মাঝারি স্তরের চাকরির বাজারে প্রভাব ফেলবে, যেখানে এত উচ্চ পর্যায়ের ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োজন সাধারণত হয় না।
সূত্র: বিবিসি
খবরওয়ালা/টিএসএন