খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের বৌষেরহাট মাঝ গ্রামে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৮টায় দুর্বৃত্তরা দেলোয়ার হোসেন (৬০) নামের একজন স্থানীয় বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। দেলোয়ার হোসেন ওই গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় বাজারের ইজারাদার ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, তিনি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাঝ গ্রাম এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে তাকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেলোয়ার হোসেনের জীবন রক্ষা করা যায়নি।
বিমানবন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি এবং এদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাইদের মধ্যে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই বিরোধই হত্যার মূল কারণ হতে পারে। নিহতের স্বজনরা জানান, তারা শীঘ্রই এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করবেন।
এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাজারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা উচিত। স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | দেলোয়ার হোসেন (৬০) |
| পিতার নাম | মোহাম্মদ হোসেন |
| গ্রাম / ইউনিয়ন | বৌষেরহাট মাঝ গ্রাম, রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন |
| উপজেলার নাম | বরিশাল সদর উপজেলা |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি, রাত ৮টা |
| হত্যাকাণ্ডের ধরন | কুপিয়ে হত্যা |
| পুলিশি পদক্ষেপ | লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত, অভিযানের প্রস্তুতি |
| সম্ভাব্য কারণ | জমিজমা নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব |
এই ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা ও পরিবারিক অভিযোগ মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বরিশালে পারিবারিক বিরোধ ও বাজার সংক্রান্ত জটিলতা কখনো কখনো সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তদন্ত আরও এগোচ্ছে, এবং এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন।
এই দুঃখজনক ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সবাই একসাথে সতর্ক থাকতে হবে যেন ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি পুনরায় না ঘটে।