খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দায়িত্বরত চিকিৎসকরা নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন কি না, তা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
মন্ত্রী বলেন, “দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কি না, তা আমরা সরাসরি গিয়ে দেখব। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সেবা গ্রহণে যেন সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হবে।
সভায় মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক সমান সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ভোটের হিসাব নয়—স্বাস্থ্যসেবা হবে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা এবং রোগীসেবায় মানবিক আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তদারকি কার্যক্রম কয়েকটি ধাপে পরিচালিত হতে পারে। সম্ভাব্য কাঠামো নিচে তুলে ধরা হলো:
| কার্যক্রমের ধরন | উদ্দেশ্য | দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা/ব্যক্তি | সম্ভাব্য সময়সূচি |
|---|---|---|---|
| আকস্মিক পরিদর্শন | চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সেবা মান যাচাই | মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম | মাসে একাধিকবার |
| রোগী প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ | সেবার মান সম্পর্কে সরাসরি মতামত | হাসপাতাল প্রশাসন | চলমান |
| অনিয়ম তদন্ত | অভিযোগের সত্যতা যাচাই | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর | অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে |
| প্রতিবেদন প্রকাশ | স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ | মন্ত্রণালয় | ত্রৈমাসিক |
মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তাই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করা জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, জরুরি বিভাগ, মাতৃসেবা ইউনিট এবং উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজর দিতে।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, মন্ত্রণালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। ডিজিটাল উপস্থিতি মনিটরিং, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা এবং কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, সেবা খাতে অনিয়মের অভিযোগ এলে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভালো কাজের স্বীকৃতিও দেওয়া হবে, যাতে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়।
সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে জনসেবার মানোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও আস্থার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।