খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সম্প্রতি আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান এক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ড. ইউনূস সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, এটি এক মারাত্মক সামাজিক সংকটের সূচনা, যা জনগণের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের বদলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, “নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডের খবর দেয়ার আগে আমাদের উচিত ছিল পূর্ববর্তী সরকারের সময়ের আর্থিক ও সামাজিক তথ্যগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরা। নীতিগত ভুল ও দুর্নীতির প্রভাব পর্যালোচনা ছাড়া শুধুমাত্র বর্তমান সরকারের সমালোচনা যথাযথ নয়।”
তিনি বলেন, এই ৩০ লাখ মানুষকে যে আর্থিক ক্ষতি সহ্য করতে হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, “এই ক্ষতির টাকা কোথায় গিয়ে খরচ হলো? জনগণের মূলধন কি অপচয় করা হয়েছে?”
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাই এই নতুন গরিবত্বের মূল কারণ। তিনি দাবি করেন, প্রতি বছর দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
| ধরণ | সংখ্যা (প্রায়) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| নতুনভাবে গরিব | 30,00,000 | ড. ইউনূস সরকারের প্রথম বছরেই সংযোগিত |
| মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র | 15,00,000 | মূলত চাকুরি ও আয়ের হ্রাসে প্রভাবিত |
| কৃষক ও গ্রামীণ | 10,00,000 | ফসলের মূল্য হ্রাস ও ঋণ বৃদ্ধিতে প্রভাবিত |
| শহুরে শ্রমজীবী | 5,00,000 | মজুরি ও কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রভাবিত |
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও উদ্বেগজনক। গরিবত্বের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু শিক্ষার মান, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণযোগ্যতা, এবং সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
তারেক রহমান সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, তৎপরতার সঙ্গে গরিবত্ব হ্রাসে নীতি গ্রহণ ও প্রভাবিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা নিশ্চিত করতে। পাশাপাশি, তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন যেন তারা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার সঠিক তথ্য জানার পরই সিদ্ধান্ত নেন।
উল্লেখ্য, দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী কর্মসংস্থান হ্রাস এবং বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অবিলম্বে সঠিক নীতি গ্রহণ করা না হয়, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে দরিদ্র জনগণের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।