খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সড়কে অর্থ আদায় এবং ঈদযাত্রা নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো যদি নিজেদের কল্যাণে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলে, তবে সেটিকে সরাসরি ‘চাঁদা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। মন্ত্রীর মতে, আদায়ের প্রক্রিয়াটি যখন জবরদস্তিমূলক বা বাধ্যতামূলক হয়, কেবল তখনই তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে।
মন্ত্রী বলেন, সড়কে পরিবহন খাত থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়, তা মূলত মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ পরিচালনার জন্য আদায় করে। এটি একটি দীর্ঘদিনের ‘অলিখিত বিধি’র মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অর্থ আদায়ের পেছনে একটি সাংগঠনিক ভিত্তি থাকে। যখন কোনো পক্ষ এই টাকা দিতে অনিচ্ছুক থাকে এবং তাকে ভয় দেখিয়ে বা বাধ্য করে টাকা নেওয়া হয়, তখন সেটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির আওতায় পড়ে।
তবে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, এই সংগৃহীত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে জনমনে বিতর্ক থাকতে পারে। রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা দলের শ্রমিক সংগঠনের একটি আধিপত্য সবসময়ই পরিলক্ষিত হয়। তবে তারা যেহেতু নিজেদের মধ্যে আলোচনা বা সমঝোতার মাধ্যমে এটি করছে, তাই মন্ত্রণালয় সরাসরি একে চাঁদাবাজি বলছে না। তবে এই প্রক্রিয়ায় কোনো সাধারণ মালিক বা শ্রমিক বঞ্চিত হচ্ছেন কি না কিংবা সংগৃহীত অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যানজট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ বাজারগুলোকে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের ঈদযাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিচে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি ও সড়ক ব্যবস্থাপনার প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | গৃহীত পদক্ষেপ ও মন্ত্রীর মন্তব্য |
| চাঁদাবাজি রোধ | সমঝোতার বাইরে জোরপূর্বক অর্থ আদায় বন্ধে নজরদারি। |
| যানজট নিরসন | মহাসড়কের পাশের অবৈধ বাজার ও স্থাপনা উচ্ছেদ। |
| ঈদ ছুটি | দীর্ঘ ছুটির মাধ্যমে যাত্রীচাপ কমানোর পরিকল্পনা। |
| মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক | অর্থের সঠিক বণ্টন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা। |
| যাত্রী নিরাপত্তা | ঈদের ৫-১০ দিন আগে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা। |
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, “যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোনো স্থানে বাইরের কারও হস্তক্ষেপ বা চাপ প্রয়োগ করে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা চাই একটি সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা।” ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গতবারের সফল মডেল অনুসরণ করার পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। ছুটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিস্তারিত ট্রাফিক গাইডলাইন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
সব মিলিয়ে, সড়কে অর্থ সংগ্রহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণকে এবারও একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।