খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর হাজারীবাগের টালি অফিসের গলির পঞ্চম তলার একটি কক্ষে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম আনিশা ফেরদৌসী (২২)। তিনি হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং জলিল রহমানের কন্যা। আনিশা এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি চতুর্থ সেমিস্টার শেষ করে পঞ্চম সেমিস্টারে পড়াশোনা করছিলেন।
আনিশার বাবা, জলিল রহমান, জানান, “আমার মেয়ে পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেছিল। বিকেলে এই বিষয়টি প্রকাশ পেলে পারিবারিক কলহের কারণে সে নিজের ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ করে রাখে। কিছু সময় পরে আমরা দরজা ভেঙে দেখি, সে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানিয়েছেন, চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী আনিশা মারা গেছেন। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে এবং হাজারীবাগ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, পারিবারিক মতবিরোধ ও ব্যক্তিগত সমস্যাকে কেন্দ্র করে সম্ভবত এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মৃতদেহের সাথে থাকা নথিপত্র, ফোন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র সংগ্রহ করছে।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | আনিশা ফেরদৌসী |
| বয়স | ২২ বছর |
| পিতা | জলিল রহমান |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (আইইউবি) |
| বিভাগ | কম্পিউটার সায়েন্স |
| বর্ষ | চতুর্থ বর্ষ (পঞ্চম সেমিস্টার) |
| ঠিকানা | হাজারীবাগ, ঢাকা |
| ঘটনা সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ৫:৩০টার দিকে |
| স্থান | টালি অফিসের গলি, হাজারীবাগ, ঢাকা |
পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আনিশার আচরণ সাম্প্রতিককালেই বেশ অসংগঠিত মনে হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও হতাহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং মানসিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং পরিবারের বক্তব্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।