খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেকোনো নৌযান দেখা মাত্রই তা ধ্বংস করার জন্য তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালির জলসীমায় কোনো জাহাজ বা ছোট নৌকা যদি মাইন বসানোর অপচেষ্টা চালায়, তবে মার্কিন নৌবাহিনী যেন কালক্ষেপণ না করে সেগুলোকে সরাসরি গুলি করে এবং প্রয়োজনে ধ্বংস করে দেয়। ট্রাম্পের এই নির্দেশনায় কেবল নৌযান নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও চরম ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক নৌপথে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা মাইন স্থাপনের চেষ্টা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক অপূরণীয় হুমকি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে এই রুটের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজে নিয়োজিত মার্কিন জাহাজগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর ট্রাম্প আরও কঠোর আদেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে যে গতিতে মাইন সরানোর কাজ চলছে, তা যথেষ্ট নয়। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন:
মাইন অপসারণের এই কার্যক্রমকে আগের তুলনায় অন্তত তিন গুণ গতিতে বৃদ্ধি করতে হবে।
প্রণালির প্রতিটি অংশকে শতভাগ নিরাপদ ও নৌ চলাচলের উপযোগী করতে হবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে সার্বক্ষণিক সতর্কাবস্থায় থাকতে হবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ, যা পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। এটি বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনের জন্য লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। নিচে এই প্রণালি সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | গুরুত্ব ও প্রভাব |
| ভৌগোলিক অবস্থান | ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ জলপথ। |
| জ্বালানি পরিবহন | বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। |
| বাণিজ্যিক রুট | মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর (সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) প্রধান রপ্তানি পথ। |
| নিরাপত্তা ঝুঁকি | মাইন স্থাপন বা নৌযান আটকের ফলে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। |
| মার্কিন ভূমিকা | নৌপথের অবাধ চলাচলের সুরক্ষায় মার্কিন পঞ্চম নৌবহর (5th Fleet) এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকে। |
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেমন জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এই কঠোর পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছে, অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন যে—সরাসরি ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থার নির্দেশ ওই অঞ্চলে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নির্দেশ মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রমকে আরও আগ্রাসী রূপ দেবে। যদি কোনো পক্ষ সত্যিই মাইন স্থাপনের চেষ্টা করে, তবে মার্কিন বাহিনী কোনো প্রকার সতর্কবার্তা ছাড়াই সরাসরি আক্রমণে যাবে, যা এই সংকীর্ণ জলপথের নিরাপত্তা সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
বর্তমানে এই এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ নজরদারি চলছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ বাস্তবায়নে স্ট্রেইট অব হরমুজে মাইনবিরোধী জাহাজের উপস্থিতি ও তৎপরতা লক্ষণীয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে।