খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বগুড়ায় অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা পর্যায়ের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান সাগর। তিনি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে শহরের জলেশ্বরীতলা কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন শনিবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালের ৩০ আগস্ট রাতে। সেদিন সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনে রুবেল প্রামানিক নামে এক ব্যক্তি চা পান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় মিজানুর রহমান সাগরসহ চার থেকে পাঁচজন মোটরসাইকেলে সেখানে উপস্থিত হন। তারা রুবেলকে জোরপূর্বক তুলে কলেজ মিলনায়তনের পেছনের নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
রুবেল প্রামানিক দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তাকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। একপর্যায়ে তার মোবাইলভিত্তিক অর্থ লেনদেন হিসাব থেকে ২৮ হাজার ৩০০ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে থাকা আরও ২২ হাজার ৮০০ টাকা জোরপূর্বক স্থানান্তর করা হয়। পরে তিনি সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ | ৩০ আগস্ট ২০১৪ |
| অভিযোগকারী | রুবেল প্রামানিক |
| অভিযুক্ত | মিজানুর রহমান সাগরসহ ৪-৫ জন |
| অভিযোগ | অপহরণ, মারধর, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ |
| দাবি করা চাঁদা | ২ লাখ টাকা |
| জোরপূর্বক নেওয়া অর্থ | ৫১ হাজার ১০০ টাকা |
| গ্রেপ্তারের তারিখ | ২০ ফেব্রুয়ারি (রাত) |
| কারাগারে প্রেরণ | ২১ ফেব্রুয়ারি (দুপুর) |
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলায় অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে জেলা শাখার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এস এম এ মাহমুদ বলেন, মিজানুর রহমান সাগর জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে আছেন, তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার কোনো পদ নেই। তিনি জানান, গত বছরের ৩০ অক্টোবর মামলাটি দায়ের হয় এবং ১ ডিসেম্বর থেকে সাগর কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। মামলার বিষয়টি আগে অবগত ছিলেন না বলেও তিনি দাবি করেন।
দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।