খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা থানচিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আবদুল কাদের (১৬) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলা সদরের বাসস্টেশন সংলগ্ন একটি গাড়ির চাকার হাওয়া দেওয়ার দোকানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কিশোরটি প্রায় একশ গজ দূরে ছিটকে পড়ে—যা ঘটনাটির ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
নিহত আবদুল কাদের চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইস ইউনিয়নের মৌলভির দোকান এলাকার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে সে থানচি বাসস্টেশন এলাকায় নুরুল আলমের মালিকানাধীন একটি চাকার হাওয়া দেওয়ার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় দোকানের মালিক উপস্থিত ছিলেন না। হঠাৎ করেই মেশিনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। আশপাশের লোকজন মুহূর্তেই ছুটে এসে দেখতে পান, কাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দূরে পড়ে আছে।
তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, বিস্ফোরণের অভিঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে, বিশেষ করে মাথা ও বুকে মারাত্মক ক্ষতি হয়।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাসুদেব দাশ জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে, চাকার হাওয়া দেওয়ার মেশিনের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির ফলে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | বাসস্টেশন এলাকা, থানচি, বান্দরবান |
| ঘটনার সময় | শনিবার, রাত প্রায় ৮টা |
| নিহতের নাম | আবদুল কাদের (১৬) |
| স্থায়ী ঠিকানা | কালিয়াইস ইউনিয়ন, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম |
| পেশা | চাকার হাওয়া দেওয়ার দোকানের কর্মচারী |
| সম্ভাব্য কারণ | মেশিনে অতিরিক্ত চাপজনিত বিস্ফোরণ (প্রাথমিক ধারণা) |
এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত যন্ত্রপাতি পরীক্ষা ও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে উচ্চচাপযুক্ত যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও সতর্কতা না থাকলে প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিশোর আবদুল কাদেরের অকালমৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।