খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন মৌসুমে বড় প্রত্যাশা নিয়েই মাঠে নেমেছিল ইন্টার মায়ামি। তবে মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আলোচিত এই ক্লাবটিকে। নিজেদের প্রথম লিগ ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলস এফসি–র কাছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করল হাভিয়ের মাচেরানোর শিষ্যরা।
ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি আদৌ খেলতে পারবেন কি না। প্রাক্–মৌসুম সফরে ৭ ফেব্রুয়ারি ইকুয়েডরে এক প্রীতি ম্যাচে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। ফলে এমএলএসে মায়ামির প্রথম ম্যাচে তাঁর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুশীলনে ফেরেন মেসি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে একাদশে রেখেই মৌসুমের প্রথম লড়াইয়ে নামে মায়ামি।
কাগজে-কলমে এটি ছিল লিগের দুই শক্তিশালী দলের লড়াই। একদিকে মেসি, অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলসের হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিন—দুই বিশ্বতারকার উপস্থিতি ম্যাচটিকে আলাদা মাত্রা দেয়। দর্শকদের আগ্রহও ছিল তুঙ্গে। লস অ্যাঞ্জেলসের মেমোরিয়াল কলোসিয়ামে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭৬ হাজার দর্শক, যা এমএলএস ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যার রেকর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই লস অ্যাঞ্জেলস এফসি ছিল আক্রমণাত্মক। ৩৭ মিনিটে সনের নিখুঁত পাস থেকে ডেভিড মার্তিনেজ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিরতির আগে মেসির সামনে সমতা ফেরানোর একটি সহজ সুযোগ এসেছিল, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। পুরো ম্যাচে তাঁকে ছন্দহীনই দেখিয়েছে—বল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, পাসে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ায় লস অ্যাঞ্জেলস। ৭৩ মিনিটে ডেনিস বুয়েঙ্গা গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে (৯৪ মিনিটে) নাথান অরদাজ তৃতীয় গোলটি করে জয় নিশ্চিত করেন। সন ৮৯ মিনিট পর্যন্ত মাঠে থেকে আক্রমণভাগে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করেন এবং দলীয় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নিচে ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | ইন্টার মায়ামি | লস অ্যাঞ্জেলস এফসি |
|---|---|---|
| বল দখল | ৫৪% | ৪৬% |
| মোট শট | ৯ | ১৪ |
| লক্ষ্যভেদী শট | ৩ | ৭ |
| গোল | ০ | ৩ |
| কর্নার | ৫ | ৬ |
পরিসংখ্যান বলছে, বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে কার্যকারিতার ঘাটতি ছিল মায়ামির। মেসির ওপর নির্ভরতা স্পষ্ট হলেও দলীয় সমন্বয়ের অভাব ও রক্ষণভাগের দুর্বলতা বড় ব্যবধানে হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চলতি বছরে এটি ছিল মেসির প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল বেশি। তবে মৌসুমের শুরুতেই এমন হতাশাজনক ফলাফল মায়ামির জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এল। সামনে লম্বা মৌসুম—এখন দেখার বিষয়, এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে ইন্টার মায়ামি।