খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের ফাইনালে শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ভারতকে স্বল্প রানে আটকে রাখতে পারলেও ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে ৪৬ রানের বড় ব্যবধানে হার মানতে হয়েছে ফাহিমা খাতুনের দলকে। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই আসরের শিরোপা নিজেদের করে নিল ভারত ‘এ’ দল। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম আসরেও বাংলাদেশের মেয়েদের হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত ‘এ’ দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে। শুরুটা বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিল বাংলাদেশের বোলারদের কারণে। পাওয়ার প্লে-র প্রথম ৬ ওভারে ভারত মাত্র ৩২ রান তুলতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের লেগ স্পিনার ও অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন বল হাতে ছিলেন অনন্য। তিনি ৪ ওভার বল করে মাত্র ২৫ রানের বিনিময়ে তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার ঘূর্ণি জাদুতে ১০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৫৩।
তবে ম্যাচের চিত্র বদলে যায় পঞ্চম উইকেট জুটিতে। তেজাল হাসাবনিস এবং রাধা যাদব মিলে ৬৯ রানের একটি লড়াকু পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। রাধা যাদব ৩৬ রানে আউট হলেও তেজাল হাসাবনিস ৩৪ বলে ৫১ রানের একটি অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ইনিংসের শেষ ওভারে তেজালের একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন শারমিন, যা ভারতকে ১৩৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করে।
১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ‘এ’ দল শুরুটা মন্দ করেনি। পাওয়ার প্লে-তে ইশমা তানজিমের উইকেট হারিয়ে ৩৬ রান তোলে তারা। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বাংলাদেশের ইনিংস তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে শুরু করে। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে রানের চাকা মন্থর হয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো দলের ওপর পাহাড়সম চাপ তৈরি করে। ১০ ওভার শেষে দলের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৪৮।
পরবর্তী ৯.১ ওভারে মাত্র ৪০ রান যোগ করতেই বাকি ৭টি উইকেট হারায় বাংলাদেশের মেয়েরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন ওপেনার শামীমা সুলতানা এবং ১৮ রান আসে শারমিন সুলতানার ব্যাট থেকে। ভারতের লেগ স্পিনার প্রেমা রাওয়াত মাত্র ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে মাত্র ৮৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
| দলের নাম | রান / উইকেট | ওভার | প্রধান পারফর্মার |
| ভারত ‘এ’ | ১৩৪ / ৭ | ২০.০ | তেজাল ৫১*, রাধা ৩৬; ফাহিমা ৪/২৫ |
| বাংলাদেশ ‘এ’ | ৮৮ / ১০ | ১৯.১ | শামীমা ২০, শারমিন ১৮; প্রেমা ৩/১২ |
ফলাফল: ভারত ‘এ’ দল ৪৬ রানে জয়ী এবং চ্যাম্পিয়ন।
ম্যাচসেরা: তেজাল হাসাবনিস (ভারত ‘এ’)।
ব্যাংককের এই ফাইনাল হার বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য বড় এক শিক্ষা। পাওয়ার প্লে-র সুবিধা কাজে লাগাতে পারলেও স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারা এবং বড় শট খেলার অভাবই মূলত হারের প্রধান কারণ। যেখানে ভারতের মেয়েরা পঞ্চম উইকেট জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়, সেখানে বাংলাদেশের কোনো জুটিই ২৫ রানের বেশি গড়তে পারেনি। তবে ফাহিমা খাতুনের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং বোলিং ইউনিট হিসেবে বাংলাদেশের লড়াই ভবিষ্যতে ভালো করার রসদ জোগাবে। ভারত তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও প্রমাণ করল কেন তারা দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তি।