খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কানাডাজুড়ে গভীর ভাবগাম্ভীর্য, মর্যাদা এবং বিনম্র শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের ঐতিহ্য ও ভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মরণসভায়।
কানাডার রাজধানী অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। সকালে বাংলাদেশ হাউসে হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কানাডার বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। সভার শুরুতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
হাইকমিশনার তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ সকল শহীদ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলন কেবল সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল রাজনৈতিক জাগরণের সূচনা, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশের মাটিতে দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে শিকড়ের সংযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।”
হাইকমিশনার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এর সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সুশাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
কানাডার উইনিপেগ শহরে ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা ও স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনসমূহ যৌথভাবে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে অংশ নেয় ম্যানিটোবা লার্নিং সেন্টার, কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানিটোবা, বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ম্যানিটোবা বাংলাদেশ ভবন, এবং বেঙ্গল টাইগারস ক্রিকেট ক্লাব।
উল্লেখযোগ্য আলোচক ছিলেন ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান এবং হেলাল মহিউদ্দিন। আলোচনায় মাতৃভাষার তাৎপর্য, জাতিসত্তা ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণে বাংলার গুরুত্ব এবং প্রবাসে জন্মানো দ্বিতীয় প্রজন্মের শিশুদের জন্য ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
| অতিথি | পদবী/সংগঠন | মন্তব্যের বিষয় |
|---|---|---|
| নেইলি কেনেডি | ম্যানিটোবা সরকার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রী | বহু সংস্কৃতির শক্তি হিসেবে ভাষার গুরুত্ব |
| জেনিফার চে | ম্যানিটোবা লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি সদস্য | প্রবাসে ভাষার সংরক্ষণের গুরুত্ব |
| ডেভিড প্লেঙ্কেজ | ম্যানিটোবা লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি সদস্য | সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিচয় |
| জেনিস লুকাস | উইনিপেগ ডেপুটি মেয়র | ভাষা ও সংস্কৃতির সংহতি প্রচেষ্টা |
অনুষ্ঠানে কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ও ছাত্র সংগঠনসহ প্রবাসী তরুণরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহমুদুর রহমান ভূঁইয়া, সহসভাপতি, ম্যানিটোবা লার্নিং সেন্টার।