খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্র দখল এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে একাধিক মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন একাধিক কেন্দ্রে মামুনুল হক সরাসরি অবস্থান করে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এই হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং এখনও বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগে আমাদের অনেক চড়াই–উতরাই পেরোতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছে। আমরা এই হামলাকে আইনবহির্ভূতভাবে ছেড়ে দেব না। প্রত্যেক আহত নেতাকর্মীর বিষয়টি অনুসন্ধান করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
| জেলা/কেন্দ্র | আহত নেতাকর্মীর সংখ্যা | হাসপাতালের নাম | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ধানমণ্ডি | ১২ | ধানমণ্ডি বেসরকারি হাসপাতাল | ভর্তি, চিকিৎসাধীন |
| পলাশী | ৮ | নগরী মেডিকেল সেন্টার | চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরা |
| গুলশান | ৫ | শহীদ হাসপাতাল | চিকিৎসাধীন |
| মিরপুর | ১০ | মিরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র | ভর্তি, স্থিতিশীল |
তবে ববি হাজ্জাজের অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, “তারা আমাদেরকে মেরেও জিতেছে, এখন কান্নাকাটি করেও জিততে চাচ্ছে। ভোটের দিন তাদের সঙ্গে কোনো বড় সংঘাত হয়নি। একটি কেন্দ্রে যাওয়ার পর তারা আমার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে, তখন পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে আর্মি এসে উভয়পক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।”
মামুনুল হক আরও অভিযোগ করেন, “যেখানেই কিছুটা হট্টগোল বা উত্তেজনা হয়েছে, পুলিশ ও আর্মি তা ছত্রভঙ্গ করেছে। যে কেউ আহত হয়েছে, তারা পুলিশ বা আর্মির পদক্ষেপে আহত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলের কায়দায় আঘাত করে ভোট চুরি করার পর এখন মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা হচ্ছে। এর দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে।”
এ ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ-প্রতিযোগিতা আগামী নির্বাচনী পরিবেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণের অন্যতম মূল বিষয় হবে।
মোটমাট, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা ঘোষণা ও তার প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যা আগামী নির্বাচনী পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।