খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাহিনীতে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এই নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়-এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ে পুলিশের জনবল ঘাটতি পূরণ এবং টহল ও অপরাধ দমন কার্যক্রম জোরদার করার জন্য এই নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে ১০ হাজারেরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যেগুলো বর্তমানে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অবৈধ অস্ত্র রাখার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে না।”
মন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল, সেগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যারা লাইসেন্স পেয়েছেন, তারা আদৌ যোগ্য ছিলেন কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা অনিয়মের মাধ্যমে যেসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হবে। সেই লাইসেন্সের আওতায় থাকা অস্ত্রও জব্দ করা হবে।
নিম্নে ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | পরিমাণ/অবস্থা | করণীয় |
|---|---|---|
| নতুন কনস্টেবল নিয়োগ | ২,৭০১ জন | দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু |
| উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র | ১০,০০০+ | আইনানুগভাবে উদ্ধার অভিযান |
| পুরোনো লাইসেন্স | বিগত সরকারের সময় প্রদান | পুনঃযাচাই ও অনিয়মে বাতিল |
| রাজনৈতিক লাইসেন্স | যাচাইাধীন | প্রমাণ পেলে বাতিল ও অস্ত্র জব্দ |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবলরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।
সার্বিকভাবে, নতুন নিয়োগ ও লাইসেন্স পুনঃযাচাই কার্যক্রম আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।