খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থানকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের সঙ্গে এক নারী থাকার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, পর্তুগালের ভিসা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি সম্প্রতি দিল্লি সফর করেন। তার সঙ্গে থাকা নারী একজন নিকটাত্মীয় বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য পর্তুগালের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দিল্লিতে যেতে হয়। এ কারণে ভারতীয় ভিসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মাহদী হাসান নিয়ম মেনে ভারতীয় ভিসা সংগ্রহ করেই দিল্লিতে যান এবং সেখানে একটি বেসরকারি ভিসা প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের পক্ষে ভিসা আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে।
সূত্র জানায়, বেলা এগারোটার দিকে মাহদী হাসানকে শনাক্ত করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কাছে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে একাধিক অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। এতে তিনি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একটি সূত্রের দাবি, বিদেশের মাটিতে হঠাৎ অজানা নম্বর থেকে ধারাবাহিক ফোন পাওয়া তাকে বিচলিত করে তোলে।
ভিসা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি পুরান দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় যান বলে জানা যায়। পরে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ের চেষ্টা করলেও কোথাও অবস্থানের সুযোগ পাননি।
বুধবার বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে দিল্লি থেকে একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মাহদী হাসান। সেখানে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার অভিযোগ, ভারতে অবস্থানকালে তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নিচে ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো—
| সময় ও তারিখ | ঘটনাবিবরণ |
|---|---|
| মঙ্গলবার সকাল | কনট প্লেসে ভিসা কেন্দ্রে উপস্থিতি |
| বেলা প্রায় ১১টা | তাকে শনাক্ত ও ভিডিও ধারণ |
| দুপুর ২টা–২টা ৩০ | বাংলাদেশ থেকে শনাক্ত হওয়ার খবর প্রাপ্তি |
| পরবর্তী সময় | দিল্লির বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় খোঁজা |
| বুধবার বিকাল ৩টা ৪০ | ঢাকায় প্রত্যাবর্তন ও জিজ্ঞাসাবাদ |
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র আরও জানায়, দিল্লি থেকেই ভিসা সংগ্রহ করে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।