পশ্চিম ইকুয়েডরের মানাবি প্রদেশে বন্দুকধারীদের নির্বিচার হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশ সোমবার জানায়, ঘটনার আগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জড়ো করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর হামলাকারীরা রাইফেল ও পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। কুইটো থেকে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা মূলত খামারের শ্রমিক ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাটি সকাল ভোরে সংঘটিত হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হামলাকারীরা সেনা সদস্যের পোশাক পরিধান করেছিল, যা এই ধরনের আক্রমণকে আরও ভীতিকর করেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে সামরিক পোশাকধারী হামলার ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটছে। সাধারণত এসব হামলা আন্তর্জাতিক মাদক কার্টেল ও তাদের সহযোগী চক্রের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। মাদকপাচার ও এলাকায় নিয়ন্ত্রণবৃদ্ধি লক্ষ্য করে এই ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বাড়ছে।
জানুয়ারি মাস থেকে মানাবিসহ দেশের আরও আটটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডেনিয়েল নবোয়া মাদকবিরোধী অভিযানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন। তবুও, সহিংসতার মাত্রা কমেনি; বরং বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে সহিংস মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে।
নিচের টেবিলটি ২০২৫ সালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে:
| প্রদেশ | হত্যার ঘটনা (২০২৫) | জরুরি অবস্থা | গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| মানাবি | 642 | হ্যাঁ | খামার এলাকায় হামলার প্রবণতা বেশি |
| গুয়ায়াস | 570 | হ্যাঁ | শহরের রেস্তোরাঁ ও বাজার লক্ষ্যবস্তু |
| লোস রিওস | 415 | হ্যাঁ | মাদক চক্রের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু |
| পিচিনচা | 380 | না | রাজধানী কুইটো, নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায় |
| এস্পিনোসা | 298 | হ্যাঁ | সীমান্তবর্তী এলাকা, মাদকপাচার প্রবণতা |
পুলিশ জানায়, সোমবারের হামলায় নিহত সাতজনের মধ্যে এক নারী ও ছয় পুরুষ রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে। মানাবি প্রদেশের স্থানীয়রা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদকপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত সংঘাত ও সেনা পোশাকধারী হামলার ঘটনা ইকুয়েডরের গ্রামীণ এলাকায় ক্রমবর্ধমান সমস্যার প্রতিফলন। প্রেসিডেন্ট নবোয়া ইতিমধ্যেই “সহিংসতা রোধে আরও কঠোর আইন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা” গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকপাচার চক্রের তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মানাবি প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত-দিন টহল চালাচ্ছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।