খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আসন্ন ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন, সময়ানুবর্তী ও নিরাপদ করতে নিয়মিত আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৩ মার্চ থেকে এবং চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত। ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি হবে ১৩ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। সব টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হবে।
রেলভবনে ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীচাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই সময়সূচি সমন্বয়, অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, নিরাপত্তা জোরদার এবং মনিটরিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে নিম্নোক্ত রুটে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে:
| রুট | ট্রেনের ধরন | মন্তব্য |
|---|---|---|
| চট্টগ্রাম – চাঁদপুর | বিশেষ | নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে |
| ঢাকা – দেওয়ানগঞ্জ | বিশেষ | অতিরিক্ত যাত্রীচাহিদা মোকাবিলা |
| ভৈরববাজার – কিশোরগঞ্জ | বিশেষ | আঞ্চলিক যাত্রীসেবা জোরদার |
| ময়মনসিংহ – কিশোরগঞ্জ | বিশেষ | স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের সুবিধা |
| জয়দেবপুর – পার্বতীপুর | বিশেষ | ঈদের পর সময়সূচিতে আংশিক পরিবর্তন |
ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
৩ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন নির্দিষ্ট ভ্রমণ তারিখের অগ্রিম টিকিট ছাড়া হবে। পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে অনলাইনে বিক্রি শুরু হবে। একজন যাত্রী অগ্রিম যাত্রা ও ফিরতি যাত্রায় একবারে সর্বোচ্চ চারটি করে টিকিট কিনতে পারবেন। অগ্রিম ও ফিরতি—উভয় ধরনের টিকিটই রিফান্ডযোগ্য নয়।
যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। এতে জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারীরা সুযোগ পাবেন।
১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঈদের পর পুনরায় স্বাভাবিক সূচি কার্যকর হবে। সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় ও জোনাল পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন এবং কর্মকর্তাদের জরুরি ডিউটিতে নিয়োজিত করা হয়েছে।
ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি, র্যাব ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। টিকিটবিহীন যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ রোধে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। পাশাপাশি রেলপথে বিশেষ পেট্রোলিং, সিগন্যালিং ব্যবস্থা পরীক্ষা, কোচ ও ইঞ্জিন পরিদর্শন এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রিলিফ ট্রেন প্রস্তুত রাখা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কন্টেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া অন্যান্য মালবাহী ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত জয়দেবপুর–ঢাকা ও বিমানবন্দর–ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেনে কোনো টিকিট ইস্যু করা হবে না। কিছু ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতিও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, টিকিট বিক্রির নামে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া লিংক ছড়ানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সর্বোপরি, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে রেলওয়ের সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।