খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক-এ হঠাৎ করেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন একজন উপদেষ্টা নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বুধবার দুপুরে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন করে কার্যালয় ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থানকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের ভেতরে নানা জল্পনা ও আলোচনা শুরু হয়।
গভর্নরের বেরিয়ে যাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স কাউন্সিলের কয়েকজন নেতা ও সদস্য একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ উঠেছে, তারা সমবেতভাবে ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি করে গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ-কে কার্যালয় থেকে বের করে দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
উপদেষ্টা যখন ভবন ত্যাগ করে গাড়িতে উঠছিলেন, তখন একজন ব্যক্তি তেড়ে আসেন বলে জানা গেছে। পরে অন্যরা তাকে নিবৃত্ত করেন। তবে ওই ব্যক্তিকে আঙুল উঁচিয়ে শাসন করতে দেখা যায়, যা ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। যদিও কোনো শারীরিক আঘাত বা বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও এমন আচরণ দেশের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির প্রশ্ন তুলেছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহ গত বছরের জানুয়ারিতে এক বছরের চুক্তিতে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল ব্যাংকের চলমান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে গভর্নরকে সহায়তা করা। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং নীতিগত স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মতো নানা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান | বাংলাদেশ ব্যাংক |
| গভর্নর | ড. আহসান এইচ মনসুর |
| উপদেষ্টা | আহসান উল্লাহ |
| নিয়োগের সময় | গত বছরের জানুয়ারি |
| চুক্তির মেয়াদ | এক বছর |
| দায়িত্ব | সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা |
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক বা নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে; তবে তা সমাধানের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটেই এই অস্থিরতার সূত্রপাত। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা এখন নজর রাখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।