খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী নগরীতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এক তরুণী ফেসবুক লাইভে এসে সবার সামনে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ বুধবার নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া কাদের মণ্ডলের মোড়সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম রেজিনা সরকার পাখি (২১)। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রেজিনা সরকার পাখির আদি বাড়ি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম ইদ্রিস আলী। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীতে জনৈক এক ব্যক্তির পালিত কন্যা হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাখির পড়াশোনা নবম শ্রেণির পর আর এগোয়নি। এক পর্যায়ে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাখির আত্মহত্যার পেছনে একটি বিষাদময় প্রেমের গল্প রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভারতের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের এই দূরপাল্লার (Long Distance) সম্পর্কে সম্প্রতি গভীর টানাপোড়েন শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমের ব্যর্থতা এবং মাদকাসক্তির ফলে সৃষ্ট মানসিক অস্থিরতা সইতে না পেরেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।
আত্মহত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাখি তাঁর ফেসবুক ওয়ালে একের পর এক আবেগঘন পোস্ট দিতে থাকেন। তাঁর শেষ মুহূর্তের পোস্টগুলোতে চরম হতাশা ও একাকীত্বের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
| সময়কাল | পোস্টের বিষয়বস্তু |
| মৃত্যুর ৪ ঘণ্টা আগে | ‘আজকে আমার শেষ দিন, আল্লাহ মাফ করুক… পৃথিবীতে আমার জন্য কোনো সুখ নেই।’ |
| মৃত্যুর ২ ঘণ্টা আগে | ‘বিদায় এই সুন্দর পৃথিবী।’ |
| আত্মহত্যার আগমুহূর্তে | কথিত প্রেমিকের উদ্দেশে ‘আই লাভ ইউ’ ও ‘আই মিস ইউ’ লেখা একটি চিরকুট। |
| চূড়ান্ত মুহূর্ত | ফেসবুক লাইভে এসে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া। |
ফেসবুক লাইভ চলাকালীন পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা ওড়না কেটে পাখিকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তাঁর প্রাণবায়ু নিঃশেষ হয়ে যায়। খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মেয়েটি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিলেন। মাদকাসক্তি এবং ভারতীয় সেই যুবকের সাথে সম্পর্কের অবনতিই তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে আত্মহত্যার এই প্রবণতা বর্তমানে এক ভয়াবহ উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক এবং বিষণ্নতার কবলে পড়া তরুণ প্রজন্মের প্রতি পরিবারের আরও বেশি যত্নশীল ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।