খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং দ্রুত বর্ধনশীল এভিয়েশন বাজার হিসেবে পরিচিত চীন তাদের আকাশপথের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস (Airbus) থেকে আরও ১২০টি আধুনিক বাণিজ্যিক বিমান কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বেইজিং। বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎস এই ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেন। ২০২৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই চ্যান্সেলর মেৎসের প্রথম চীন সফর, যা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কূটনীতির দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের এভিয়েশন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই নতুন চুক্তিটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মেৎস জানান, চীন এয়ারবাসের ওপর তাদের আস্থা বজায় রেখেছে এবং সর্বোচ্চ ১২০টি বিমানের নতুন অর্ডার প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তিনি এই সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর যে কেবল রাজনৈতিক আলোচনা নয়, বরং বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্যের পথ প্রশস্ত করে, এই চুক্তিটিই তার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।”
যদিও এই ১২০টি বিমানের সুনির্দিষ্ট মডেল বা সরবরাহকাল নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে, চীনের অভ্যন্তরীণ রুটে বহুল ব্যবহৃত ‘এ৩২০ নিও’ (A320neo) পরিবারের বিমান এবং আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ‘এ৩৫০’ (A350) মডেলের আধিক্য থাকতে পারে।
বিশ্বের বিমান বাজারে মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। বিগত বছরগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গুণগত মানের সমস্যার কারণে বোয়িংয়ের তুলনায় চীন এয়ারবাসের প্রতি বেশি ঝুঁকেছে। নিচের টেবিলটি চীন ও এয়ারবাসের বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরছে:
| বিষয়বস্তু | বিবরণ |
| অর্ডারের সংখ্যা | সর্বোচ্চ ১২০টি বিমান |
| ঘোষণা প্রদানকারী | ফ্রেডরিখ মেৎস, জার্মান চ্যান্সেলর |
| প্রধান বিক্রেতা | এয়ারবাস (ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম) |
| সম্ভাব্য মডেল | এ৩২০ নিও (A320neo) ও এ৩৫০ (A350) সিরিজ |
| কৌশলগত গুরুত্ব | ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা |
| সফরের গুরুত্ব | চ্যান্সেলর মেৎসের প্রথম বেইজিং সফরে বড় ধরনের সাফল্য |
চ্যান্সেলর মেৎস আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এয়ারবাসের সাথে চীনের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে কারিগরি সহযোগিতা, চীনে অবস্থিত এয়ারবাসের সংযোজন কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই বিমান জ্বালানি (SAF) নিয়ে যৌথ গবেষণা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তিয়ানজিনে এয়ারবাসের যে ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’ রয়েছে, এই নতুন অর্ডারের ফলে সেটির উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিনের এই বিশাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত কেবল তাদের বিমানবহর আধুনিকায়ন করবে না, বরং ইউরোপের উৎপাদন খাতে হাজার হাজার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে ইউরোপের এই বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও একটি বড় বার্তা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিমানগুলোর সুনির্দিষ্ট মূল্য এবং ডেলিভারি শিডিউল নিয়ে চূড়ান্ত প্রটোকল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চ্যান্সেলর মেৎসের এই সফল সফরের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কার মাঝেও চীন তাদের এভিয়েশন খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর এবং ইউরোপীয় প্রযুক্তির ওপর তাদের নির্ভরতা আরও সুসংহত হচ্ছে।