খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনসমূহের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করে এবং দলটির নিবন্ধনও বাতিল করে। এর ফলে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ভোটের আগে ‘নো বোট নো ভোট’ শ্লোগান সম্বলিত ক্যাম্পেইন চালালেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বড় কোনো প্রতিরোধমূলক রাজনৈতিক আয়োজন দেখা যায়নি।
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসায় আওয়ামী লীগ কিছুটা স্বস্তি বোধ করছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলের নেতাকর্মীরা পুনরায় অফিসে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। কোথাও কার্যালয় দখল এবং অবস্থান নিয়েও কিছু সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয়ভাবে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে ‘ইতিবাচক’ অবস্থান বজায় রাখায় দলটি আশা করছে, সরকার প্রয়োজনীয় ‘সবুজ সংকেত’ দিলে তারা মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবে।
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার দলটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও **জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)**ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে বিএনপির নমনীয় অবস্থানই স্থানীয় পর্যায়ে কার্যালয় খোলার পথ সুগম করেছে।
দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আপাতত আওয়ামী লীগ সহিংসতার পথে না গিয়ে সংগঠনকে পুনর্গঠন ও সুসংগঠিতভাবে রাজনীতি করার পক্ষে। মূলত নিম্নলিখিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে:
| পরিকল্পনার বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সাংগঠনিক পুনর্গঠন | কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত অফিস পুনরায় চালু করা, তৃণমূল শক্তি পুনর্বিন্যস্ত করা |
| নেতৃত্বের নীতি | অতীত নেতাদের মধ্যে যাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের নেতৃত্বে না রাখা |
| নতুন নেতৃত্বের প্রাধান্য | তরুণ ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বকে সামনে আনা |
| রাজনৈতিক ধরন | সহিংসতা এড়িয়ে ইতিবাচক রাজনৈতিক কার্যক্রমে মনোনিবেশ |
দলের হাইকমান্ডের ধারণা, নবনির্বাচিত সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে মনোযোগ দেবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং পদক্ষেপে আওয়ামী লীগ কিছুটা ‘স্বস্তির জায়গা’ দেখছে। নেতারা আশা করছেন, কার্যক্রমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রত্যাহার করা হবে।
সব মিলিয়ে, আওয়ামী লীগ বর্তমানে মূলত সংগঠন পুনর্গঠন, পরিচ্ছন্ন ও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনা এবং নতুন ধারার রাজনীতির প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেছে। তবে কার্যকরভাবে মাঠে ফিরে আসার জন্য সরকারের আনুষ্ঠানিক ‘স্পেস’ বা রাজনৈতিক ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।