খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজার শহরের কলাতলী চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় একটি এলপিজি গ্যাস পাম্প বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ১৬ জন দগ্ধ হন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রেফার করা হয়েছে, আর ৭ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাম্পটির নাম কক্সবাজার ফিলিং স্টেশন। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। মালিক নূরুল আলম জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যে উদ্বোধন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে দমকল বাহিনীর অনুমতি ছাড়াই পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, “শহরের একটি আবাসিক এলাকায় গ্যাস পাম্প স্থাপন করা হচ্ছিল। গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে। মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর থেকেই কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিস্ফোরণের সময় প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকে থাকা গ্যাস নিঃশেষ হয়ে যায়।
ঘটনার ফলে ১০টি বাড়ি এবং ২০–২৫টি পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
| ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | ধ্বংস/ক্ষতির ধরন | আনুমানিক সংখ্যা |
|---|---|---|
| আবাসিক ভবন | আংশিক ক্ষতি | ১০টি বাড়ি |
| পর্যটক পরিবহন | জিপ গাড়ি | ২০–২৫টি |
| গ্যাস ট্যাংক | সম্পূর্ণ নিঃশেষ | ১৪,০০০ লিটার |
স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম জানান, “গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর আগুন পাশের স্থাপনাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। স্টেশনটির আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে।”
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুকতাগিন মাহমুদ সোহেল বলেন, “আহতদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের ঢাকা ও চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।”
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন জানিয়েছেন, “উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।”
এই বিস্ফোরণ একটি সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে যে অনুমতি ছাড়া গ্যাস পাম্প স্থাপন করা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে এবং এর প্রভাব শুধুমাত্র মালিক নয়, পুরো আশপাশের কমিউনিটিকেও প্রভাবিত করে।