খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০২৬ সালের একুশে পদক এই বছর প্রাপক হয়েছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে এই সম্মাননা তাঁকে (মরণোত্তর) প্রদান করেন। আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা।
আইয়ুব বাচ্চু বাংলাদেশের রক সংগীতের একজন পথপ্রদর্শক। ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু করে ২০১৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দেশের সংগীতাঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ব্যান্ড ‘এলআরবি’-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পদক গ্রহণের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; এটি আইয়ুব বাচ্চুর আজীবন সঙ্গীত সাধনার প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আইয়ুব বাচ্চুর সৃজনশীলতা ও স্বকীয়তা বাংলাদেশের সংগীতকে আন্তর্জাতিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে। রাষ্ট্র যখন একজন শিল্পীর অবদানকে মূল্যায়ন করে, তখন সমগ্র সংগীতাঙ্গনই সম্মানিত হয়। এই স্বীকৃতি আগামী প্রজন্মের তরুণ সংগীতশিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে। পরিবার আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে আইয়ুব বাচ্চুর নামের সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান **‘স্বাধীনতা পদক’**ও যুক্ত হবে।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, “আইয়ুব বাচ্চু আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার সুর, সাহস ও স্বপ্ন রয়ে গেছে। সেই স্বপ্নই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।”
২০২৬ সালে মোট ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ওয়ারফেজ’ একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। নিম্নের টেবিলটি প্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেছে:
| ক্র. নং | প্রাপকের নাম | অবদান/ক্ষেত্র | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১ | আইয়ুব বাচ্চু | সঙ্গীত (রক) | মরণোত্তর স্বীকৃতি |
| ২ | ওয়ারফেজ (ব্যান্ড) | সংগীত শিল্প | তরুণদের প্রেরণা |
| ৩ | ব্যক্তি ১ | সাহিত্য | গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম |
| ৪ | ব্যক্তি ২ | সাংবাদিকতা | জাতীয় পর্যায়ে অবদান |
| ৫ | ব্যক্তি ৩ | চিত্রকলা | সৃজনশীল শিল্পকর্ম |
| ৬ | ব্যক্তি ৪ | নাটক/থিয়েটার | সংস্কৃতিক অবদান |
| ৭ | ব্যক্তি ৫ | শিক্ষা | শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান |
| ৮ | ব্যক্তি ৬ | সমাজসেবা | সমাজকল্যাণে অনন্য ভূমিকা |
| ৯ | ব্যক্তি ৭ | গবেষণা/বিজ্ঞান | দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি |
এবারের একুশে পদক প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর অবদান ও বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসের প্রতি রাষ্ট্রের উচ্চমানের স্বীকৃতি প্রমাণিত হলো। তাঁর সুর ও সৃজনশীলতা আগামী প্রজন্মের জন্য চিরকাল প্রেরণার উৎস হিসেবে থাকবে।