খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনায় আটক চারজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারী বাড়ির রিকশাচালক শাহ আলম জানান, তিনি তার অটোরিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অটোরিকশাটি চুরি হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয় এবং পরে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে চোররা রিকশার ব্যাটারি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়।
অটোরিকশার মালিক ও স্থানীয়রা আটকদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ব্যাটারি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৯৯৯ জরুরি সেবায় কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ব্যাটারি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ছাড়বে না বলে জানালে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারি হয়।
রায়পুর থানার পুলিশ সদস্য মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদেরসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এনিয়ে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় অবরোধ করে। এসময় তারা ইট, বাঁশ ও গাছের গুড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| সন্ধ্যা ৭:৫০ | শাহ আলম অটোরিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যায় |
| সন্ধ্যা ৮:০০ | অটোরিকশা চুরি হয় |
| রাত ৮:৩০ | সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয় |
| রাত ৮:৩০–৯:০০ | স্থানীয়রা ব্যাটারি ফেরত চেয়ে চাপ প্রয়োগ করে |
| রাত ৯:০০ | ৯৯৯ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে |
| রাত ৯:০০–১:০০ | পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধ |
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) জামিনুল হক জানান, ৯৯৯ কল পেয়ে মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আটক চারজনকে থানায় নেওয়ার সময় এলাকাবাসী পুলিশকে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে চারজন পুলিশ আহত হয়। আটকরা বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে। তিনি আরও জানান, রিকশা মালিক মামলা করলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পুলিশ আহতের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দিয়েছে, এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
রিকশাচালক শাহ আলম বলেন, “আমরা ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য চোরদের আটক করেছি। পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়, এতে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। অন্তত ১৫–১৬ জন আহত হয়েছে।”
এই ঘটনায় স্থানীয় ও পুলিশ উভয় পক্ষই চরম উত্তেজনার মধ্যে থাকলেও, অতিরিক্ত বাহিনীর সতর্ক ও দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে।