খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
খুলনা মহানগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে সাত বছর বয়সী এক কোমলমতি শিশুকে ধর্ষণের পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যক্কারজনক অপরাধের অভিযোগে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খালিশপুরস্থ পিপলস গেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি পিপলস গেট এলাকার একটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ঘটনার সময় শিশুটিকে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিপন (৪০) পাশবিক নির্যাতন চালায়। শিশুটির আর্তচিৎকার এবং পরবর্তী সময়ে অস্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা দেখে বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশে খবর দেয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) শিশুটির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার শারীরিক ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য কাউন্সিলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
নিচে ঘটনা সংক্রান্ত তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | পিপলস গেট এলাকা, খালিশপুর, খুলনা। |
| ঘটনার সময় | শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি), বিকেল বেলা। |
| ভুক্তভোগী | ৭ বছর বয়সী কন্যা শিশু। |
| অভিযুক্তের নাম ও বয়স | শিপন, বয়স ৪০ বছর। |
| বর্তমান অবস্থা | অভিযুক্ত আটক; শিশুটি খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। |
| আইনি পদক্ষেপ | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের। |
ভুক্তভোগী শিশুটির পারিবারিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত করুণ। শিশুটির মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই শিশুটি এমন জঘন্য লালসার শিকার হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র ঘৃণা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এমন অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন হীন কাজ করার সাহস না পায়।
সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পাঞ্চল এলাকায় কর্মজীবী বাবা-মায়েরা কাজে বাইরে থাকার সুযোগে শিশুদের নিরাপত্তা প্রায়ই বিঘ্নিত হয়। এক্ষেত্রে পাড়া-মহল্লায় সামাজিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং পুলিশি টহল জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।