বান্দরবানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় ঘর পুড়ে ছাই

দুর্গম পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এর পৌর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়টি বসতঘর ও একটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) ভোর পৌনে ৬টার দিকে বান্দরবান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উজানী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ছয়টি বসতঘর ও একটি রেস্তোরাঁ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তাপ ও বিস্তারের কারণে পাশের একটি ভবনের মেঝেও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরবেলায় একটি রেস্তোরাঁর রান্নাঘর থেকে প্রথমে আগুনের শিখা দেখা যায়। সেখানে জ্বলন্ত আগুন দ্রুত পাশের বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার বেশিরভাগ বাড়িই দাহ্য উপকরণে নির্মিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।

অগ্নিকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয় বিবরণ
ঘটনার তারিখ ২ মার্চ
সময় ভোর পৌনে ৬টা
স্থান উজানী পাড়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, বান্দরবান পৌরসভা
ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর ৬টি
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ১টি (রেস্তোরাঁ)
ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ৪টি
আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় প্রায় ১ ঘণ্টা

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ব্যবহার্য সামগ্রী, আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও নগদ অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতায় ঘর থেকে কিছুই বের করার সুযোগ পাননি। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভাতে প্রাথমিকভাবে পানিভর্তি বালতি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে এগিয়ে এলেও আগুনের তীব্রতার কারণে তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা খান সুলতানা হীরামনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সরকারি সহায়তার আওতায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, উজানী পাড়া এলাকায় ঘরবাড়ি ঘনবসতিপূর্ণ এবং অধিকাংশই কাঠ, বাঁশ ও টিন দিয়ে নির্মিত। ফলে সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তারা রান্নাঘরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, গ্যাসের চুলার ত্রুটি বা অসাবধানতাজনিত কারণ—সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।