খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায়। একই সঙ্গে উত্তর ভারত মহাসাগরে শত্রুপক্ষের নৌযানও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের স্থল ও নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা করেছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে থাকা শত্রু জাহাজ। যদিও রয়া নিউজ এ সংবাদ জানিয়েছে, কুয়েত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলার ষষ্ঠ ধাপ শুরু করেছে। এই ধাপে তারা ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ হামলা চালিয়েছে।
নিচের টেবিলে ইরান দ্বারা হামলার লক্ষ্যবস্তু এবং ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| লক্ষ্যবস্তু | অবস্থান | হামলার ধরন | ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি | কুয়েত | ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র | ১৫ |
| মধ্যপ্রাচ্যের ২৭টি মার্কিন ঘাঁটি | বিভিন্ন স্থান | ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন | নির্দিষ্ট নয় |
| তেল নোফ বিমানঘাঁটি | তেল আবিব, ইসরায়েল | ক্ষেপণাস্ত্র | নির্দিষ্ট নয় |
| হা-কিরিয়া কমান্ড সদরদপ্তর | তেল আবিব, ইসরায়েল | ক্ষেপণাস্ত্র | নির্দিষ্ট নয় |
| প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স | তেল আবিব, ইসরায়েল | ক্ষেপণাস্ত্র | নির্দিষ্ট নয় |
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী ধাপে ধাপে আরও কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যা তাদের ভাষায় হবে ‘পরপর আঘাত’। তবে এসব হামলার কারণে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কুয়েত ও উত্তর ভারত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার সংমিশ্রণ অঞ্চলটিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এই সাম্প্রতিক ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামরিক প্রতিশোধের নতুন মাত্রা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।