খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে নাটকীয় উল্লম্ফন ঘটেছে। গত তিনদিনে ব্রেন্ট এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ১৩ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও তীব্র করেছে।
সঙ্ঘর্ষ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন তেহরানে এক সামরিক হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। তার আগের দিন থেকেই তেলের বাজারে ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়। এএফপি’র প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৭২ ডলারে, যা দিনের শেষ নাগাদ বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ ডলারে। একই সময়ে WTI ক্রুড শুরুতে ৬০ ডলারে বিক্রি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ৭০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
| ক্রুড ধরন | ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুরু) | ২৭ ফেব্রুয়ারি (শেষ) | বৃদ্ধি (%) | ৩০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|---|
| ব্রেন্ট | ৭২ ডলার | ৮২ ডলার | ১৩.9% | ১৩% |
| WTI | ৬০ ডলার | ৭০ ডলার | ১৬.7% | ১৩% |
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের দিন ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল স্থগিত ঘোষণা করে। হরমুজ প্রণালী, যা আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের দৈনিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবহন হয়।
রাইস্টাড এনার্জির কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক এএফপিকে জানান, “যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকে, তেল পরিবহনের জন্য বিকল্প রুট ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু তাতেও আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক সরবরাহ কমে অন্তত ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল হয়ে যেতে পারে। এটি তেলের দামের উপর চাপ বাড়াবে।”
বিশ্ববাজারে এমন পরিস্থিতি অনেক দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট দীর্ঘমেয়াদি হলে তেলের ওপর নির্ভরশীল শিল্প ও পরিবহণ খাত বিশেষভাবে প্রভাবিত হবে।
উল্লেখ্য, তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধুমাত্র খুচরা বাজারেই নয়, সরাসরি উৎপাদন ও রফতানি খাতকেও প্রভাব ফেলবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্য আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে যুদ্ধকেন্দ্রিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীর বন্ধ থাকা পরিস্থিতি মিলিত হয়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।