খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
চালডাল ডটকমের যশোর অফিসে অন্তত ৬০০ কর্মীর বেতন তিন থেকে চার মাস ধরে বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। অফিসের প্রিমিয়াম কেয়ার অ্যাসোসিয়েট আকাশ আকবার চার বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি করছেন। তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তার বেতন এখনও তিনি পাননি। বেতন না পাওয়ায় কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন।
২০১৯ সালে যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১২ ও ১৪ তলায় ১২,০০০ বর্গফুটের জায়গা বরাদ্দ নিয়ে চালডাল ডটকমের কল সেন্টার চালু করা হয়। যশোর অফিসে বর্তমানে প্রায় ৬০০ কর্মী কাজ করছেন।
কর্মীরা জানান, বেতন বন্ধ থাকার কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও শিক্ষাজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অনেকে অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং তাঁদের মাসিক খরচ বেতনের উপর নির্ভরশীল। কিছু কর্মী ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিয়েছেন।
| কর্মীর নাম | পদবী | বকেয়া বেতন | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| আকাশ আকবার | প্রিমিয়াম কেয়ার অ্যাসোসিয়েট | ৩ মাস | বেতন দেওয়ার জন্য কোম্পানি আশ্বাস দিলেও বাস্তবে বেতন পাননি |
| জি এম দুর্লভ হাসান | ম্যাপিং অ্যাসোসিয়েট | ৩৪,৫০০ টাকা | ফেব্রুয়ারিতে চাকরি ছেড়েছেন; বেতন এখনও পাওয়া যায়নি |
| অন্যান্য কর্মী | বিভিন্ন | ৩–৪ মাস | বেতন না পাওয়ায় দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষাজীবনে সমস্যা |
অবস্থান বিক্ষোভের বিষয়ে আকাশ আকবার বলেন, “আমাদের বেতন বন্ধ থাকায় পকেটের টাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। আমরা আমাদের অধিকার দাবি করছি।” অন্যদিকে, জি এম দুর্লভ হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “বেতন না দেওয়ায় আমি প্রতিষ্ঠান ছেড়েছি। আমার মতো অন্তত ৬০০ কর্মী বেতনবঞ্চিত।”
চালডাল ডটকম যশোর অফিসের ফোকাল পারসন মিঠুন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “হঠাৎ আমাদের আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে সমস্যা থাকায় বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। কর্মীদের হট্টগোলের কারণে বিকেলের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
কর্মীদের দাবি, প্রতিষ্ঠান যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া বেতন পরিশোধ না করলে আন্দোলন তীব্র হবে। বেতনবঞ্চিত অবস্থায় কর্মীরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তারা শুধু অর্থ নয়, ন্যায্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ চায়।
এই ঘটনা সমগ্র যশোরের চাকরিজীবী সমাজে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেখানে সংস্থার আর্থিক অস্বচ্ছতা সরাসরি কর্মীর জীবনযাত্রা ও শিক্ষা-অর্থনীতি প্রভাবিত করছে।