খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কোনো বাহ্যিক চাপ নয়, বরং নবনির্বাচিত সরকারের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সদ্য বিদায়ি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই দিনে কমিশনের অপর দুই কমিশনারও তাদের পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. মোমেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ সুগম করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ড. মোমেন বলেন:
“নতুন সরকারের একটি বিশেষ প্রত্যাশা রয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৪তম দিনে আমরা সরে দাঁড়ালাম যাতে তারা তাদের পছন্দমতো এবং অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন পুনর্গঠন করতে পারে। এতে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে এবং রাষ্ট্রের মঙ্গল হবে।”
দুদকের কার্যকারিতা বা ‘নখ-দাঁত’ থাকা না থাকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা কৌশলী উত্তর দেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বিগত সময়ে কমিশন কতটা কার্যকর ছিল তা বিচার করার দায়িত্ব জনগণের এবং সংবাদমাধ্যমের। তারা তাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার সাথে পদত্যাগকারী অন্য দুই কমিশনার হলেন মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। নিচে তাদের দায়িত্বকাল ও সংক্ষিপ্ত তথ্য একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| পদের নাম | ব্যক্তির নাম | যোগদানের তারিখ | পদত্যাগের তারিখ | পূর্বতন কর্মস্থল |
| চেয়ারম্যান | ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন | ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ | ৩ মার্চ, ২০২৬ | সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ |
| কমিশনার | মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী | ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ | ৩ মার্চ, ২০২৬ | বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা (সাবেক) |
| কমিশনার | ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ | ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ | ৩ মার্চ, ২০২৬ | বাংলাদেশ সেনাবাহিনী |
২০২৬ সালের শুরুতেই দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর থেকেই বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। ড. মোমেনসহ পুরো কমিশনের এই পদত্যাগ সেই পরিবর্তনেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণত পাঁচ বছরের মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হলেও মাত্র ১৫ মাসের মাথায় তারা বিদায় নিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতি দমনে গতিশীলতা আনতে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। পদত্যাগের এই ঘটনাটি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে নৈতিক দায়বদ্ধতার এক নতুন নজির স্থাপন করেছে বলে অনেকে মনে করছেন। সরকার এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।