খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাত বরণের জেরে ফুঁসে উঠেছে মুসলিম বিশ্ব। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে মার্কিন মেরিন সেনাদের গুলিবর্ষণে অন্তত ১১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গত রোববার সংঘটিত এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার দায় সোমবার (২ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কূটনৈতিক মিশনে বিদেশি সেনাদের এমন সরাসরি বলপ্রয়োগের ঘটনা পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে করাচিতে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী করাচি মার্কিন কনস্যুলেট ঘেরাও করেন এবং একপর্যায়ে কনস্যুলেট প্রাঙ্গণের বহিঃস্থ দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে মোতায়েন করা মার্কিন মেরিন সেনারা সরাসরি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান এবং পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়ায়।
প্রাথমিকভাবে গুলিবর্ষণের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও মার্কিন প্রশাসনের দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, কনস্যুলেট রক্ষায় মেরিন সেনারা গুলি ছুড়েছে। তবে তারা দাবি করেছেন, স্থানীয় পুলিশ বা বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতেও হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | করাচি মার্কিন কনস্যুলেট, সিন্ধু প্রদেশ, পাকিস্তান। |
| ঘটনার সময় | ১ মার্চ, ২০২৬ (রোববার)। |
| নিহতের সংখ্যা | ১১ জন (এখন পর্যন্ত নিশ্চিত)। |
| গুলিবর্ষণকারী পক্ষ | মার্কিন মেরিন সেনা (যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত)। |
| তদন্ত কমিটির ধরণ | উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (JIT)। |
| প্রতিবেদন জমার সময় | আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে। |
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরাসরি সামরিক ঘাঁটি নেই, তবে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী তাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেট ভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে মেরিন সেনারা নিয়োজিত থাকেন। কিন্তু সার্বভৌম একটি দেশের নাগরিকের ওপর বিদেশি সেনাদের গুলি চালানোর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সিন্ধু প্রদেশের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী শারজিল মেমন জানিয়েছেন, এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারা প্রকৃতপক্ষে গুলি চালিয়েছে এবং কতজন এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার হবে।
সিন্ধু সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসরদাস হেমদানি জানিয়েছেন, ‘নিরাপত্তা’ কর্মীদের গুলিতেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দিষ্ট কোনো বাহিনীর নাম উল্লেখ করতে রাজি হননি। এদিকে, করাচির এই ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে মার্কিন বিরোধী মনোভাব তীব্রতর হয়েছে। স্থানীয় জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনাকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। ইরানের ধর্মীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিরাজমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার ও মার্কিন দূতাবাসের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তদন্ত প্রতিবেদনে যদি মেরিন সেনাদের একক দায় প্রমাণিত হয়, তবে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।