খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে, তা মাত্র চার দিনের মধ্যেই পুরো অঞ্চলকে অস্থিরতার আবর্তে টেনে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল বারবার সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত। ফলে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে দেশটিতে গভীর জাতীয় আবেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার পাশাপাশি তেহরান কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধ নেওয়া এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়ায়নি; বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বনেতাদের বক্তব্যেও যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমদিকে বলেন, অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। তবে পরবর্তী বক্তব্যে তিনি সময়সীমা দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি মন্তব্য করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ‘সপ্তাহজুড়ে বা যতদিন প্রয়োজন অব্যাহত থাকবে’। আবার নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ একই গতিতে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে সক্ষম। সিএনএন-এর সঙ্গেও তিনি প্রায় এক মাসের সম্ভাব্য সময়সীমার কথা বলেন, যদিও দীর্ঘায়িত যুদ্ধ তিনি চান না বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, এ সংঘাত দীর্ঘ হলেও তা বছরের পর বছর স্থায়ী হবে না। ফক্স নিউজ-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি দ্রুত ও চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যেতে পারে, যদিও কিছু সময় লাগতে পারে।
নিচে প্রধান নেতাদের বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরা হলো—
| নেতা | দেশ | সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে মন্তব্য |
|---|---|---|
| ডোনাল্ড ট্রাম্প | যুক্তরাষ্ট্র | প্রায় ৪–৫ সপ্তাহ; প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ |
| বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু | ইসরায়েল | দ্রুত সমাপ্তির আশা; দীর্ঘমেয়াদি নয় |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—ইরানের প্রতিক্রিয়ার মাত্রা, আঞ্চলিক মিত্রদের সম্পৃক্ততা, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায়, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি অনিশ্চয়তায় ঘেরা। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার না হলে এই সংঘাত স্বল্পমেয়াদি সীমায় আবদ্ধ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্ববাসী তাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকেই তাকিয়ে আছে।