খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. সাকিব (২৭) নামে এক টমটমচালক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে গফরগাঁও-ভালুকা আঞ্চলিক সড়কের শিবগঞ্জ বাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঘাতক লরির চালক পালিয়ে গেলেও হেলপার রনি নামের একজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
নিহত সাকিব কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানা এলাকার দক্ষিণ ডলি হর গ্রামের বাসিন্দা হক মিয়ার ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে তিনি গফরগাঁও এলাকায় টমটম চালাতেন এবং পরিবারের উপার্জনের প্রধান ভরসা ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে শিবগঞ্জ বাজারে সাকিব সড়কের পাশে টমটম নিয়ে যাত্রী ওঠানামার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই বাজার এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে লরিটির গতি রোধ করে হেলপারকে আটক করতে সক্ষম হলেও চালক দ্রুত পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত লরি জব্দ করে আটক হেলপারকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান জানান, “ঘটনার পরপরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পলাতক চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার তারিখ | ৪ মার্চ |
| সময় | সকাল আনুমানিক ৯:১৫ |
| স্থান | শিবগঞ্জ বাজার, গফরগাঁও-ভালুকা সড়ক |
| নিহত | মো. সাকিব (২৭) |
| বাড়ি | দক্ষিণ ডলি হর গ্রাম, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ |
| যানবাহন | দ্রুতগামী লরি |
| অবস্থা | চালক পলাতক, হেলপার আটক |
স্থানীয়দের অভিযোগ, গফরগাঁও-ভালুকা সড়কে অতিরিক্ত গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিয়মিত তদারকি এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।
সাকিবের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে কেড়ে নেয়নি, বরং আবারও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।