খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস (২৭) হত্যার ঘটনায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে সিয়াম আহম্মেদ (১৯) ও আবদুল্লাহ (২৮) নামে ওই দুই যুবককে আটক করা হয়।
সিয়াম আহম্মেদ বাটাজোর ডাকুরিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে, এবং আবদুল্লাহ হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামের মো. ইদ্রিস আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হয়। এই অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতেই বাটাজোর ডাকুরিয়া থেকে সিয়াম এবং জামির দিয়া এলাকা থেকে আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দীপুর মরদেহ স্কয়ার মাস্টারবাড়ী মেইন রোডে গাছে ঝুলানো অবস্থায় রশি টেনে স্লোগান দেয় এবং জনতাকে উত্তেজিত করে লাশের ওপর নির্যাতন চালায়। তারা উপস্থিত জনতাকে নির্যাতন চালাতে উৎসাহিত করত।”
এখন পর্যন্ত দীপু দাস হত্যা মামলায় মোট ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঘটনাস্থল: ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া।
ঘটনার সময়: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত।
পাঠ্যক্রম: ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়, এরপর তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরানো হয়।
দীপু দাসের ভাই, অপু চন্দ্র দাস, অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
নিচের টেবিলে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আসামিদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| নাম | বয়স | গ্রাম/ইউনিয়ন | পিতার নাম | গ্রেপ্তার স্থান | আদালতে স্বীকারোক্তি |
|---|---|---|---|---|---|
| সিয়াম আহম্মেদ | ১৯ | বাটাজোর ডাকুরিয়া | সাইফুল ইসলাম | বাটাজোর ডাকুরিয়া | হ্যাঁ/না |
| আবদুল্লাহ | ২৮ | কড়ইতলা, হবিরবাড়ি | মো. ইদ্রিস আলী | জামির দিয়া | হ্যাঁ/না |
| অন্যান্য ২৩ জন | ২০–৩৫ | বিভিন্ন এলাকা | – | বিভিন্ন এলাকা | হ্যাঁ/না |
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চলছে। আসামিদের ধাপে ধাপে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের বিচারের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হবে।
এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং মানবাধিকার সংস্থা, সাধারণ মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো এই ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠেছে।
এই ঘটনার পর থেকে পুলিশ, র্যাব এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং হত্যার ঘটনায় যুক্ত আরও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এইভাবে ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং তদন্ত প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে।