খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ইমতিয়াজ উদ্দিন (২৫) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ইমতিয়াজকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত বোয়ালখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বগোমদণ্ডী মুন্সিপাড়া এলাকার শওকত হাবিবের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমতিয়াজ গত দেড়-দুই বছর ধরে তার বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াত। তবে পড়ার ফাঁকে সে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালাত এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করত। অভিযুক্তের কৌশলে শিশুরা পরিবার বা বন্ধুবর্গকে ঘটনা জানাতে সাহস পেত না।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, “অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমতিয়াজ তার অপরাধ স্বীকার করেছে। আমরা ভুক্তভোগী শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ১০ বছরের কম বয়সী চারজন শিশু এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন মেয়ে এবং একজন ছেলে রয়েছে। নিচের টেবিলে শিশুদের বয়স ও লিঙ্গের তথ্য দেওয়া হলো:
| ক্রমিক সংখ্যা | শিশু ভুক্তভোগীর বয়স | লিঙ্গ |
|---|---|---|
| ১ | ৯ বছর | মেয়ে |
| ২ | ৮ বছর | মেয়ে |
| ৩ | ৭ বছর | মেয়ে |
| ৪ | ৬ বছর | ছেলে |
ওসি মাহফুজুর রহমান আরও জানান, “ঘটনার পেছনে আরও কোনো তথ্য বা যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রাখছে। অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, “প্রাইভেট পড়ার নামে এমন অপরাধের খবর এলাকায় ভীতি তৈরি করেছে। আমরা আশা করি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন হয়ে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।”
ঘটনাটি বোয়ালখালী ও চট্টগ্রামের অন্যান্য এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সঙ্গে মানসিক ও শারীরিকভাবে সহানুভূতিশীল আচরণ এবং পিতা-মাতার সজাগ নজরদারি অপরিহার্য।