খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী ঘটনার খবর পেয়ে বিকেলে ব্যাংক পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “ব্যাংকের সুরক্ষিত লকার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার কীভাবে অনুপস্থিত হলো তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।”
নিহত স্বর্ণালংকার মালিক সুমন কুমার দাস বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায় বসবাস করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসা করে আসছেন। তিনি জানান, “গত বছরের ১৫ অক্টোবর আমার মা, খালা, ভাই ও স্ত্রীসহ কয়েকজন আত্মীয়ের স্বর্ণালংকার ব্যাংকের লকারে রাখি। বুধবার বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান ছিল। তারপর ব্যাংকে এসে লকার খুলে দেখি স্বর্ণালংকার নেই। আমি অবিলম্বে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা তদন্ত শুরু করেছে।”
পূবালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুল আমিন বলেন, “এক গ্রাহকের লকারে রাখা কিছু মালামাল বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছি। তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা কী।”
একই ব্যাংকের অন্য গ্রাহক মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমি খবর পেয়ে আমার লকার পরীক্ষা করেছি। আমার স্বর্ণালংকার ঠিকঠাক আছে। তবে এই ধরনের ঘটনা গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।”
বাগেরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন জানান, “সুমন দাসের লকারে স্বর্ণালংকার অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংক পরিদর্শন করেছি। লকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিচের সারণিতে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | বাগেরহাট শহর, খানজাহান আলী সড়ক, পূবালী ব্যাংক পিএলসি শাখা |
| লকার মালিক | সুমন কুমার দাস, ব্যবসায়ী, বাগেরহাট শহর |
| হারানো মালামাল | প্রায় দুইশ ভরি স্বর্ণালংকার |
| ঘটনার সময় | ৫ মার্চ ২০২৬, বিকেল |
| ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া | সহকারী মহাব্যবস্থাপক ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে অবহিত |
| পুলিশের ব্যবস্থা | তদন্ত শুরু, সিসিটিভি ফুটেজ ও লকার পরিদর্শন |
| গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া | উদ্বেগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি |
স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এমন ঘটনা গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তারা চাইছেন, ব্যাংক ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে গ্রাহকদের সম্পদ রক্ষায় দৃঢ় ব্যবস্থা নিক। পুলিশও নিশ্চিত করেছে যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
এই ঘটনা ব্যাংকের সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং লকার নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছে। তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে কীভাবে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সুরক্ষিত লকার থেকে অনুপস্থিত হয়ে যায়। এই ঘটনার প্রভাব গ্রাহক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সতর্কতা তৈরি করবে।